আবারো চেনা রূপে ফিরছে রাজধানী

সড়কে যানজট, জনজট। এটাই রাজধানী শহর ঢাকার চিরচেনা দৃশ্য। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ২২ দিন রাজধানীতে বন্ধ ছিল গণপরিবহন। কিন্তু চলমান লকডাউনের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঁচ দফা নির্দেশনাকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে গণপরিবহনের চলাচল।

আবার ফিরতে শুরু করেছে চিরচেনা সেই রাজধানীর চিত্র। তবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের চিত্র ছিল খুবই নাজুক। আর গণপরিবহন চলাচলের প্রথম দিনই রাজধানী জুড়ে ছিল তীব্র যানজট। বেশির ভাগ বাসচালক ও হেলপারদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। অধিকাংশ বাসচালক-হেলপারদের থুতনিতে দেখা গেছে মাস্ক। একই ভাবে অনেক যাত্রীকেও একই অবস্থায় দেখা গেছে।

কিন্তু গণপরিবহনের চলাচলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) পাঁচ দফা নির্দেশনা প্রদান করে। যার মধ্যে রয়েছে আন্তঃজেলা গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটে উল্লিখিত মোট আসনসংখ্যার অর্ধেকের (৫০ শতাংশ) বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না। কোনোভাবেই সমন্বয়কৃত ভাড়ার (বিদ্যমান ভাড়ার ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি) অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না। ট্রিপের শুরু ও শেষে জীবাণুনাশক দিয়ে গাড়ি জীবাণুমুক্ত করতে হবে এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট মোটরযানচালক, অন্যান্য শ্রমিক-কর্মচারী ও যাত্রীদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে পরিবহনের মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে রাজধানী ঘুরে দেখা যায়, এসব শর্ত বেশির ভাগ গণপরিবহনই মেনে চলেনি।

সরেজমিন দেখা যায়, অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে বাস চলাচলের কথা থাকলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা পরিলক্ষিত হয়নি। অনেক বাসে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা এ জাতীয় কোনো স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করতে দেখা যায়নি।

শাহবাগ মোড়ে রজনীগন্ধা পরিবহনের চালক বলেন, রাস্তায় যাত্রী নাই তারপরেও আমরা এক সিট ফাঁকা রেখে যাত্রী পরিবহন করছি। স্যানিটাইজার আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আছে— তবে দেখাতে পারেননি। পরিস্থান পরিবহনের চালক মোবারক ঠিকভাবে মাস্ক পরেননি। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, অনেকক্ষণ মাস্ক পড়েছিলাম। মাত্রই নামিয়েছি। আমি এখন পান খাচ্ছি বলে মাস্ক নামিয়ে রেখেছি।

এদিকে ঢাকার বাইরের গণপরিবহন যেন রাজধানীতে প্রবেশ করতে না পারে তা মনিটরিং করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

গ্রামের পথে লোকজন :এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাতায়াতে গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। কিন্তু দূরপাল্লার যাত্রীরা ভেঙে ভেঙে লোকাল বাস ধরে ছুটছেন গন্তব্যে। রাজধানী থেকে গ্রামের পথে এসব মানুষের চাপে বেড়েছে পরিবহনের সংখ্যা। আর এসব গণপরিবহনের চাপে সাভারের বিভিন্ন পয়েন্টে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজটের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দূরপাল্লার যাত্রীরা বলেছেন, ঢাকা থেকে লোকাল বাসে চেপে তারা জেলার সীমানা এলাকায় যাচ্ছেন। সেখান থেকে বাস পালটে আবার নতুন বাসে উঠছেন। এভাবেই ভেঙে ভেঙে তারা গন্তব্যে যাচ্ছেন ।

উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার গত ৫ এপ্রিল থেকে সাত দিনের জন্য গণপরিবহন চলাচল বন্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করেছিল। পরে তা আরো দুদিন বাড়ানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত আরো কঠোর বিধিনিষেধ দিয়ে সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হয়। সেটি পরে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এরপর আবার তা ৫ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়, যা আবার বাড়ল। তবে গত ২৫ এপ্রিল থেকে দোকান ও শপিংমল খুলে দেওয়া হয়েছে। খোলা রয়েছে ব্যাংকও। এছাড়া জরুরি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত অফিসগুলোও খোলা আছে।

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জেলার বাইরে গাড়ি যেতে পারবে না। আন্তঃজেলা গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্ধ রয়েছে যাত্রবাহী ট্রেন ও নৌযান চলাচল। এসব নিষেধাজ্ঞা আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বহাল থাকবে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

মন্তব্য লিখুন :