ভালো বেতনের চাকরির কথা বলে স্ত্রীকে ভারতে পাচার

সংগৃহীত

ভারতে পাচারকারীদের হাতে বাংলাদেশি তরুণীকে তুলে দেওয়ার অভিযোগে তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৬ জুন) রাজধানীর কদমতলী এলাকায় সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে জাহিদুল ইসলাম ওরফে রনিকে (২৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ভারতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা ওই তরুণী ১০ জুন হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা করেন। গত ৩ মে ওই তরুণী পালিয়ে দেশে আসেন। পুলিশের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোঃ হাফিজ আল ফারুক বলেন, ওই তরুণীকে পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

অভিযোগে ওই তরুণী মামলায় মানব পাচার ও বিদেশে যৌনকর্মে বাধ্য করাই তাঁর স্বামীসহ পাচারকারী চক্রের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন। রাজধানীর শনির আখড়ায় ওই তরুণীর বাসা। এ বছরের ৬ জানুয়ারি মাসে ভালো বেতনে চাকরির কথা বলে তাঁর স্বামী তাঁকে পাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তারপর সীমান্ত পার করে তাঁকে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়। চেন্নাইয়ে চার মাস আটকে রেখে তাঁর ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়। ভারতে বেশি বেতনের কথা বলে যে নারীর হাতে তাঁকে তুলে দেওয়া হয়েছিল, তিনি হাতিরঝিল এলাকার বাসিন্দা।

ভারতে মে মাসের শেষ দিকে এক বাংলাদেশি তরুণীকে যৌন নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে ওই তরুণীকে ঢাকার মগবাজারের টিকটক হৃদয় নামে পরিচিত রিফাদুল ইসলাম হৃদয় (২৬) নির্যাতন করছেন এমন দেখা যায়। পরে ২৭ মে ভারতের বেঙ্গালুরু পুলিশ টিকটক হৃদয়সহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে।

তাছাড়া এই চক্রের মাধ্যমে ভারতে পাচার হয়ে গত ৭ মে দেশে পালিয়ে আসা আরেক তরুণী ১ জুন রাতে হাতিরঝিল থানায় টিকটক হৃদয়সহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ কর্মকর্তা হাফিজ আল ফারুক জানান, শনির আখড়ার তরুণীকে পাচারের সঙ্গে টিকটক হৃদয়ের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন :