মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা!

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিদিনই একটু একটু করে কমে আসছে। তাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যাপারে চাপ বাড়ছে সরকারের ওপর। কর্তৃপক্ষও চূড়ান্ত প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। সবমিলিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার খুব কাছাকাছি সময়ে দেশ। তারপরও সরকারের যে পরিকল্পনা, তাতে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে।

উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যাপারে তেমন কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষদিকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার হচ্ছে, তা একপ্রকার নিশ্চিত। কারণ বয়স ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে হওয়ার এই পর্যায়ের সব শিক্ষার্থীকে করোনাভাইরাসের টিকা দিয়ে শ্রেণিকক্ষে ফেরানো সম্ভব। সেই কার্যক্রম ইতোমধ্যেই ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবেই দুটি মানদণ্ডের ওপর নির্ভর করছে সরকার। এক. সংক্রমণের হার ৫ শতাংশে নেমে আসা। দুই. শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীদের টিকাগ্রহণ নিশ্চিত করা। গতকাল সংক্রমণের হার ছিল ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ। তাই এটা ৫ শতাংশে নেমে আসতে আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগাটাই স্বাভাবিক।

এ অবস্থায় সংক্রমণ যেমনই থাকুক না কেন, শতভাগ টিকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হলেও মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যাপারে রয়েছে ধোঁয়াশা। শিক্ষামন্ত্রীও এ ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যাপারে হিসেবটা আলাদা। এই পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা দ্রুতই শ্রেণিকক্ষে যেতে পারবেন।

অর্থাৎ, উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে এই মুহূর্তে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। তবে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক নিয়ে রয়ে গেছে ধোঁয়াশা।

এরই মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষককে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন জানিয়েছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দিতে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যে কোনো সময় ঘোষণা আসছে।

মন্তব্য লিখুন :