শ্রেণীকক্ষে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত স্কুলের শিক্ষার্থীরা

টানা ১৭ মাস ২৬ দিন পর আজ রবিবার খুলেছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল। ইউনিফর্ম পড়ে, কাঁধে বই-খাতার ব্যাগ ঝুলিয়ে শিক্ষার্থীরা আবারো ফিরেছে তাদের প্রিয় ক্যাম্পাসে।

শিক্ষার্থীদের কলরবে মুখরিত হয়ে উঠেছে প্রিয় শিক্ষাপ্রাঙ্গন। করোনার ভয়াল থাবার মধ্যেই চিরচেনা রূপে ফিরেছে হাবিপ্রবি স্কুল। প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরতে পেরে খুশি শিক্ষার্থীরা। প্রিয় শিক্ষক-সহপাঠীদের পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা।

হাবিপ্রবি স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী মুশফিকা নাজনিন মোহনা বলেন, আমরা খুবই আনন্দিত প্রায় দেড় বছর পর স্কুলে উপস্থিত হতে পেরে। এবং পাঠ্যক্রম নতুন করে শুরু করার কারণে, যেহেতু আমরা এসএসসি পরীক্ষার্থী। তাই আমরা একটি সুন্দর হয়ত অল্প সময় কিন্তু ছোটখাটো হলেও আমরা সুন্দর প্রস্তুতি নিতে পারবো।

আরেক শিক্ষার্থী মোছাঃ তাজনিম সুলতানা জানান, আমাদের স্বল্প সময়ের মধ্যে ঠিকভাবে প্রস্তুতি শেষ করার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

এক প্রশ্নে শিক্ষার্থীরা জানান, স্যারদের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা মাস্ক পড়েছি। শরীরের তাপমাত্রা ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেছে। প্রতিটি শ্রেণীকক্ষ পরিষ্কার ও প্রতি ব্যাঞ্চে একজন করে বসে আমরা ক্লাস করছি।

হাবিপ্রবি স্কুল থেকে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে শিশু, ১ম ও ২য় শ্রেণীর মধ্যদিয়ে শুরু করে বর্তমান হাবিপ্রবি স্কুল। এ স্কুলে পড়ে অন্য স্কুলের মাধ্যমে ২০০৬ সালে প্রথম এসএসসি দেয় এ স্কুলের শিক্ষার্থীরা। পরে ২০১০ সালে নিজ স্কুলের মাধ্যমে এসএসসি দেয় শিক্ষার্থীরা। এদিকে ২০১৪ সালে প্রাথমিক পর্যায়ের (১-৫ শ্রেণী) শিক্ষা মাধ্যম'কে সরকারিকরণ করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৪৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছে ৫ জন এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে ২০৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছে ৯ জন।

হাবিপ্রবি স্কুল থেকে আরও জানা যায়, প্রাথমিক পর্যায়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ৬ দিন, চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা শনিবার, তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী রবিবার, দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা সোমবার, প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার এবং শিশু শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসবে না।

এদিকে ২০২১ ও ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা সপ্তাহে শনিবার-বৃহস্পতিবার ক্লাস করতে পারবে। ৬ষ্ঠ শ্রেণীর সোমবার, ৭ম শ্রেণীর মঙ্গলবার, ৮ম শ্রেণীর বুধবার ও ৯ম শ্রেণী বৃহস্পতিবার ক্লাস করতে পারবে বলে জানিয়েছেন হাবিপ্রবি স্কুল কর্তৃপক্ষ।

এবিষয়ে হাবিপ্রবি স্কুলের প্রাথমিক পর্যায়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি রাণী রায় বলেন, ২৩শে আগস্ট নোটিশ পাওয়ার পর আমরা স্কুল ক্যাম্পাস সহ শ্রেণী কক্ষ পরিষ্কার, তাপমাত্রা ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করি। আমরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাবো।

এব্যাপারে হাবিপ্রবি স্কুলের মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্বাসুজ্জামান জানান, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে স্কুল ক্যাম্পাস, শ্রেণীকক্ষ পরিষ্কার, তাপমাত্রা, হাত ধোয়াসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

হাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. কামরুজ্জামান বলেন, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিবো কবে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হবে।

মন্তব্য লিখুন :