কুড়িগ্রামে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা

কুড়িগ্রাম সদর ও ফুলবাড়ীতে শীতে রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পাড় করছে গাছিরা। শীতের ভরা মৌসুমে খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করছেন গাছিরা। সূর্য্যের আলো যখন নিভু নিভু গাছিরা তখন কোমড়ে দড়ি বেঁধে হাতে দা নিয়ে খেজুর গাছে উঠে দা দিয়ে গাছ ছেলা-চাছা করে গাছে নল বসিয়ে কলস বেধে দিয়ে এই রস বাদুরসহ অন্য কোনো পাখি যাতে খেতে না পারে সে ব্যবস্থা করে নেমে পড়ে। পরের দিন সূর্য্য উঠার আগেই প্রতিটি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করছেন তারা।

শীতের মৌসুমে খেজুরের রস দিয়ে নবান্ন উৎসবে মেতে উঠে গ্রাম গঞ্জের মেয়েরা। খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরী করছে বিভিন্ন ধরেন পিঠা পাইস, ফিরনি, ভাপা পিঠা, পুলি পিঠা, পাটি সাপ্টা পিঠা ইত্যাদি সু-স্বাদু মুখরোচক খাবার। গ্রাম গুলোতে খেজুরের সু-স্বাদু রস খেতে ভির জমাচ্ছে বিভিন্ন বয়সের মানুষজন। শীতের সকালে গ্রাম অঞ্চলের বাড়ীতে মেহমান এলে খেজুর রসের নানান ধরনের পিঠা দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়ে থাকে। এ রস অত্যন্ত সু-স্বাদু ও মানব দেহের উপকারিতার কারনে মানুষের কাছে অতি জনপ্রিয়।

ফুলবাড়ী উপজেলার কুটিচন্দ্র খানার হরিরপাঠের গাছি রহিম মিয়া (৪০) জানান, আগের মত আর খেজুরের গাছ ও বাগান নেই। আগের দিনে বড় বড় পুকুরপাড়ে ও রাস্তার ধারে অনেক খেজুরের গাছ ও বাগান ছিল। বর্তমানে এসব জায়গায় খেজুর গাছের পরিবর্তে দ্রুত বর্ধণশীল ইউক্লেপটাস গাছ লাগানো হচ্ছে লাভের আশায়। যা পরিবেশ বান্ধব নয়। একই এলাকার একাব্বার আলী (৭০) বলেন, আমি ৪০ বছর ধরে খেজুর গাছ কাটি। আগের মত আর গাছে রস নেই। এবার আমি ৩৭টি গাছ কাটছি। শীত হওয়ায় আশা করছি গত বছরের চেয়ে এবার বেশি লাভবান হবো।

একটি খেজুরের গাছ থেকে আগে প্রায় ৮ থেকে ১০ কেজি রস পাওয়া যেত কিন্তু প্রাকৃতিক কারনে গাছ থেকে এখন ৩ থেকে ৪ কেজি রস পাওয়া যাচ্ছে। শীত যত বেশি হবে রস ততই বাড়বে। রস সংগ্রহের পর তা আগুনে জ্বাল করে গুড় তৈরী করা হয়। যা বাজারে বর্তমান ১২০ থেকে ১৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বিদ্যাবাগিশ গ্রামের আইন উদ্দিন, দাশিয়ার ছড়ার রহিম বাদশা, তোতা মিয়া বলেন,  প্রতি বছরের তুলনায় এবার শীত আগাম হওয়ায় খেজুর গাছ থেকে প্রচুর রস সংগ্রহ হচ্ছে। কিন্তু গতবারের তুলনায় এ বছরে খেজুরের রস বেশি হবে বলে জানিয়েছে অনেক গাছিরা। 

 কুড়িগ্রাম পৌরসভার খেজুরতলা গ্রামের জেমস (৩৫) জানান, আমার পিতার আমলের পুকুরপাড়ে ৩০টির মত খেজুর গাছ রয়েছে। যা প্রতি বছর শীতের সময় দুরদুরান্ত থেকে গাছিরা এসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় কিনে রস সংগ্রহ করে এবং শহরে ফেরি করে বিক্রি করে। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, বন বিভাগের উদাসীনতার কারণে গ্রামে খেজুর গাছ অনেকটা বিলুপ্ত হওয়ার পথে। জীব বৈচিত্রের সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ উন্নয়নে খেজুর গাছ লাগানো প্রযোজন।

মন্তব্য লিখুন :