চার দেয়ালে বন্দি মধ্যবিত্তের কান্না, নেই ঈদের আনন্দ

চার দেয়ালে বন্দি হয়ে পড়েছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার আশপাশের এলাকায় মধ্যবিত্তদের কান্না। নেই কোন ঈদের আনন্দ। একদিকে  করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মানুষ ঘরবন্দি, বন্ধ সরকারি অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। থমকে গেছে জীবনযাত্রা। অপরদিকে তিন দফা দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় বিপর্যস্থ হয়ে বেহাল অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে তাহিরপুর উপজেলার মধ্যবিত্ত সহ নিন্ম আয়ের মানুষ গুলো। 

এ সময় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও বিত্তবানেরা শ্রমজীবী মানুষকে ত্রাণ দিলেও বঞ্চিত হচ্ছেন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। অনেকের সংসার অচল হয়ে পড়লেও তারা কারও কাছে সাহায্য চাইতে পারছেন না। তাদের নিয়ে কারও ভাবনাও নেই। সরকার মধ্যবিত্তদের বাড়ি বাড়ি ত্রাণ দেওয়ার কথা বললেও এখনো কোনো ত্রাণ তারা পাননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কয়েকটি মধ্যবিত্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকের ঘরেই এখন খাবার নেই, যারা ত্রাণ দিচ্ছেন তাদের অধিকাংশই ত্রাণ দেওয়ার ছবি তুলে প্রচার নিয়ে ব্যস্ত। লোকলজ্জায় তারা ত্রাণ আনতেও পারছেন না তাদের কাছ থেকে। জানা গেছে অধিকাংশ মধ্যবিত্ত পরিবার কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। অধিকাংশেরই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আয়-রোজগারও বন্ধ।

কয়েকজন কৃষক জানান, হাতে টাকা না থাকায় পরিবারের চাহিদা পূরণের জন্য মিল মালিকের কাছে আমন ধানের আগাম টাকা চেয়েও পাননি। সামনে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় একটি উৎসব ঈদু-উল আযহাতে কিভাবে চলবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। একই কথা বলেন কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

সুনামগঞ্জ জেলা শ্রমিকলীগ সভাপতি সেলিম আহমদ বলেন, মধ্যবিত্তরা চলতেও পারেন না, বলতেও পারেন না। তাদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।

স্থানীয় বেশ কয়েকজন মধ্যবিত্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশ করার সর্থে বলেন, কৃষক পরিবারগুলো মিল মালিকের কাছে পানির দরে ধান বিক্রির প্রতিশ্রম্নতি দিয়ে টাকা নিচ্ছেন। স্থানীয় সুদ কোর মহজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে মধ্যবিত্ত ও নিন্ম আয়ের মানুষ গুলো টাকা নিয়ে কোন মতে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে তারা ধানের ন্যায্যমূল্য পাবেন না। এছাড়া তাদের মনে ও ঘরে নেই ঈদের আনন্দ। 

মন্তব্য লিখুন :