তারুণ্যের ভাবনায় বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ

শোকাবহ ১৫ আগস্ট। পেছন ফিরে আমি বঙ্গবন্ধুকে দেখি আর তাঁর কথা শুনি। তাঁর কথাগুলো এখন তরুণেরা শুনছে, পড়ছে। তারা অনুপ্রাণিত হচ্ছে। তারা যে বাংলাদেশ চায়, বঙ্গবন্ধুও সেই দেশটি চেয়েছিলেন এবং তার একটি বর্ণনা তিনি দিয়েছিলেন, ‘সোনার বাংলা।’

বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে পারি, তিনি যে তারুণ্যকে সম্মান করতেন, তাকে আমরাও সম্মান করি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তরুণ শিক্ষার্থীদের ভাবনায় ১৫ আগষ্ট ও বঙ্গবন্ধু কথা তুলে ধরেছেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মো ফাহাদ বিন সাঈদ।

’বঙ্গবন্ধু’এটি শুধু মাত্র একটি উপাধি নয়, এটি বাঙালির অস্তিত্বের আরেক নাম। এই উপাধি প্রাপ্ত মানুষটি ছিলেন বলেই আজ বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান না থাকলে হয়তো ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতি পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করার সেই শক্তি বা সাহস কোনোটাই পেতো না। কেননা তারা সবাই জানতো যে আমাদের বঙ্গবন্ধু আছেন,যিনি সর্বাবস্থায় বাঙালি জাতির স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন।

লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে দেশ ঠিকই স্বাধীন হয়েছে,কিন্তু আমাদের বঙ্গবন্ধু পারলেন না স্বাধীন বাংলাদেশে বেশিদিন শ্বাস নিতে। নিজ দেশেরই কিছু নিষ্ঠুর, বেঈমান লোকদের দ্বারা ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু নামের সেই প্রদীপটি সপরিবারে চিরতরে নিভে গেলো। বাঙালি জাতি পিছিয়ে গেলো কয়েক হাজার বছর। তৈরি হলো এক নির্মম কালো অধ্যায়ের। আর সেই ক্ষত আজও রয়ে গেলো এই বাংলায়, যা কখনোই পোষাবার নয়।

তাসপিয়া তাসনীম নাবিলা

শিক্ষার্থী

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়


বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির আলোর দিশারি হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি এক মহানায়ক এবং মানবতাবাদী দেশপ্রেমিক। শোকাবহ ১৫ আগস্ট শুধু তার প্রয়াণ দিবস নয় তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার দিন।

তরুণরা এই দিনটিকে তারুণ্যের উদ্দীপনায় জেগে উঠার দিন হিসেবেবেছে নিয়েছে। এই দিনে তরুণেরা শপথ নিচ্ছে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ 'সোনার বাংলা' গড়ার।

তরুণরা তার আদর্শকে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে, তিনি যে তারুণ্যকে সম্মান করতেন সেই তারুণ্যকে সম্মান করার চেষ্টা করছে, তিনি যে অবিচার, অনাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেন সেই অবিচার-অনাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে, সত্য প্রকাশ করতে সাহসী হচ্ছে।

নাজমুন নাহার জেমি 

শিক্ষার্থী,

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়


মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে, বয়সে মধ্যে নয়। মানুষ মরণশীল, তারপরও তাঁর মহৎ কর্মের জন্য অমরত্ব লাভ করতে পারে। এমন এক কিংবদন্তির নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যিনি মাত্র ৫৫ বছর জীবনযাপন করে মহৎ কর্মের জন্য আজীবন বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।

যিনি সাড়ে সাত কোটি বাঙালিকে পরাধীনতার শীকল থেকে মুক্ত করে স্বাধীনতার স্বাদ বাঙালির মধ্যে পৌঁছে দিতে আমরণ সংগ্রাম করেছেন। তার বলিষ্ঠ নেত্বত্বে বাঙালি জাতি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর কাছ থেকে স্বাধীনতা কেড়ে এনেছে।

কিন্তু ১৯৭৫ সালে ঘাতকেরা পরিকল্পিতভাবে সহপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে তাঁর মহৎ র্কীতি মুছে দিতে চেয়েছিল। তারা জানত না, বাংলাদেশ যতদিন থাকবে বাঙালির হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকবে।

মো. সাইফুল মিয়া 

শিক্ষার্থী,

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়


বাঙালি, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ"- শব্দ তিনটি যেন একই সূত্রে গাঁথা। বাঙালি জাতির আলোর দিশারী এবং স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল নেতৃত্ব দেন। তারুণ্যের ক্ষোভ এবং দ্রোহের সঙ্গে তিনি সংযোগ ঘটাতে পারতেন বলে তরুণদের ভাবনায় তিনি মিশে যাওয়ার ক্ষমতা রাখতেন।

এমনকি তিনি বিশ্বাস করতেন তরুণরাই দেশের মূল চালিকাশক্তি। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এদেশের গণমানুষের মুক্তির জন্য পরিচালিত সব আন্দোলন সংগ্রামেরই প্রধান চালিকাশক্তি ছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর দৃঢ় নেতৃত্ব ও সাহসী পদক্ষেপে আজ আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।

বাঙালির প্রতি বঙ্গবন্ধুর ছিলো অবিচল আস্থা, অগাধ বিশ্বাস আর ভালোবাসা। এজন্যই তিনি শোষন, বঞ্চনা ও পরাধীনতার শিকল ভেঙে মুক্তির স্বাদ এনে দিতে পেরেছিলেন। শোষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত, নির্যাতিত জনতার মুক্তির ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু একজন কিংবদন্তি।

মহান এ পুরুষকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন, তার আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করা, প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে তার নীতি-আদর্শ সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া বর্তমান তরুণ প্রজন্মের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

ফারিহা আলম লাবণ্য

শিক্ষার্থী,

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় 

মন্তব্য লিখুন :