শিকলে বাঁধা শিক্ষার্থীকে সুচিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে শিকল দিয়ে বাঁধা মেধাবী শিক্ষার্থী ফাহিমাকে মুক্ত করে সুচিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.ডব্লিউ. এম. রায়হান। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি বিগত ৩মাস যাবত শিকল দ্বারা বেঁধে রাখা ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে তা খোলার নির্দেশ প্রদান করেন। ফাহিমার ডান পায়ে প্রায় ১০থেকে ১২ফুট লম্বা শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। পরে তিনি ফাহিমা এবং তার পরিবারের সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে পরিবারসহ তার চিকিৎসার ব্যয় ভারের দায়িত্ব নেন। সেই সাথে তিনি ফাহিমার পরিবারকে ব্যক্তিগত ও সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। 

এ ব্যাপারে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.ডব্লিউ. এম. রায়হান জানান, আমি এ ধরনের মর্মান্তিক খবর শুনেই আমি ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা থেকে মুক্ত করি। ফাহিমাকে দেখে এবং তার কথাবার্তা শুনে মনে হয়েছে সঠিক চিকিৎসা করা গেলে হয়তো সে ভাল হতে পারে। ফাহিমার চিকিৎসার যাবতীয় খরচ আমি বহন করব পাশাপাশি পরিবারটির জন্য কিছু করার চেষ্টা করব বলে জানান তিনি। 

উল্লেখ্য, মানসিক ভারসাম্যহীন মেধাবী শিক্ষার্থী ফাহিমা ৩মাস ধরে শিকল বন্দি রয়েছে। সে চিলমারী উপজেলার কাঁচকোল বুরুজের পার গ্রামের মৃত: নুরুজ্জামানের কন্যা। মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে বেশ পরিচিত ছিল ফাহিমার। 

ফাহিমার বৃদ্ধ মা রাবেয়া বেওয়া জানান, ফাহিমা কাঁচকল খামার ছকিনা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৯৯৬ সালে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দ্বিতীয় বিভাগে পাশ করে। ওর বাবা নুরুজ্জামান স্ট্রোক করে বিকলাঙ্গ হয়ে পড়ায় আমাদের সংসারে অর্থসংকট দেখা দেয় প্রকট। নিজের পড়াশোনার খরচ এবং সংসার চালাতে চাকুরির সন্ধানে ফাহিমা গিয়েছিল চট্রগ্রামে। সেখানে সে চাকুরি করে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে অত্যধিক চাপে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে সে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে।

মন্তব্য লিখুন :


আরও পড়ুন