ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে উগ্রপন্থী আখ্যা ইসরায়েলের

ইরানের নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে নিয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ইসরায়েলের।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ইব্রাহিম রাইসিকে (৬০) নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। আজ রবিবার (২০ জুন) বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। 

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিওর হাইয়াত বলেছেন, ইরানের সবচেয়ে উগ্রপন্থী প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ইব্রাহিম রাইসি।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট দেশটির পরমাণু কর্মসূচি জোরদার করবেন। ইসরায়েল বলেছে, ইব্রাহিম রাইসির ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গুরুতর উদ্বেগ থাকা উচিত।

ইব্রাহিম রাইসি অতিরক্ষণশীল বলে পরিচিত। ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গতকাল শনিবার তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তাঁর এই বিজয় অনেকটা প্রত্যাশিতই ছিল। কেননা, তাঁর চেয়েও সম্ভাবনাময় ও শক্তিশালী কয়েকজন রাজনীতিবিদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।

নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ইরানের প্রধান বিচারপতিও। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও রক্ষণশীল রাজনীতিকদের সমর্থন পান। 

ইরানে গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে গণনা করা ব্যালটের মধ্যে রাইসির পক্ষে ৬২ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের নির্বাচন কমিশন। তারপর পরাজয় মেনে নেন ইব্রাহিম রাইসির তিন প্রতিদ্বন্দ্বী কট্টর ডানপন্থী মোহসেন রেজাই, আমির হোসেন কাজিজাদ্দেহ হাসেমি ও মধ্যপন্থী আবদুল নাসের হেমাতি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আগস্টে দায়িত্ব নেবেন রাইসি। জয়ের পর দেওয়া বিবৃতিতে রাইসি বলেছেন, তিনি পুরো জাতির নেতা হবেন। সরকারের ওপর জনগণের বিশ্বাস জোরদার করতে তিনি পদক্ষেপ নেবেন।

রাইসি আরও বলেছেন, তিনি ইরানে একটি কঠোর পরিশ্রমী, বিপ্লবী ও দুর্নীতিবিরোধী সরকার গঠন করবেন।

তবে রাইসি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছ প্রতিবেশী ইসরায়েল। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, রাইসি একজন উগ্রপন্থী নেতা। তিনি ইরানের সামরিক পরমাণু কর্মসূচি জোরদার করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে তীব্র বৈরিতার সম্পর্ক বিদ্যমান। উভয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে আসছে বলে প্রচলিত আছে।


(সূত্র: প্রথম আলো)

মন্তব্য লিখুন :