আফগানিস্তানের কালোবাজারে রমরমা ভিসা বাণিজ্য

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান ১৫ আগস্ট। এরপর থেকেই মূলত দেশটি বিভিন্ন দেশের দূতাবাস বন্ধ হয়ে গেছে। এমন সময়ে ভিসাপ্রত্যাশীদের সংখ্যা বাড়ছে। এ সুযোগে কালোবাজারে বহুগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দেশের ভিসা।

আফগানিস্তানের গণমাধ্যম টোলো নিউজ এ তথ্য জানায়।

কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি জানায়, বর্তমানে শুধুমাত্র বৈধভাবে পাকিস্তানের ভিসা পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া বেশ কিছু দেশের ভিসা কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে অনেক বেশি দামে।

কাবুলের একটি ট্রাভেল এজেন্সির পরিচালক শাফি শামীম বলেন, স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ অথবা তিনগুণ বেশি দামে মানুষ কালোবাজার থেকে ভিসা কিনছে।

শামীম বলেন, মানুষ বর্তমানে পাকিস্তানের ভিসা কালোবাজার থেকে ৩৫০ মার্কিন ডলার, তাজিকিস্তানের ভিসা ৪০০ ডলার, উজবেকিস্তানের এক হাজার ৩৫০ ডলার এবং তুরস্কের ভিসা কিনছে পাঁচ হাজার ডলারে।

যদিও গনি সরকারের পতনের আগে পাকিস্তানের ভিসা ছিল ১৫ ডলার, ভারতের ২০ ডলার, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানের ৬০ ডলার এবং তুরস্কের ১২০ ডলার।

শামীম জানান, তাজিকিস্তানের ভিসা ছিল ৬০ ডলার। এখন তা কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ ডলারে। তুরস্কের ভিসার মূল্য ছিল ১২০ ডলার কিন্তু এখন কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে পাঁচ হাজার ডলারে।

ট্রাভেল এজেন্সির কর্মকর্তারা আফগানদের ভিসা দেওয়ার জন্য কাবুলে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস পুনরায় খোলার আহ্বান জানান।

কাবুলের একটি ট্রাভেল এজেন্সির কর্মকর্তা পারভেজ আকবরী বলেন, কালোবাজারে ভিসা বিক্রি বন্ধের জন্য আমরা বিভিন্ন দেশকে কাবুলে তাদের দূতাবাস পুনরায় খোলার আহ্বান জানাই।

কাবুলের বাসিন্দা মোহাম্মদ হারুন জানান, তার কাছে পাকিস্তানের ভিসা আছে কিন্তু তিনি তুকারাম সীমান্ত পাড়ি দিতে পারছেন না। তাকে বলা হচ্ছে, ভিসা থাকার পরও গেট পাশ লাগবে। যেটি পাকিস্তান দূতাবাসের সামনে কিছু মানুষ বিক্রি করছেন। আর এ গেট পাশের মূল্য দুইশ থেকে তিনশ মার্কিন ডলার।

মন্তব্য লিখুন :