সাইকেল লেন যেন পার্কিং জোন

উন্নত বিশ্বের ন্যায় রাজধানী ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে তৈরি করা হয় সাইকেল লেন। সাইকেলিস্টদের দীর্ঘদিনের দাবি ও নগরবাসীকে ঝুঁকিমুক্ত সাইকেলিং এর সুযোগ করে দিতেই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে তৈরি করা হয় এই সাইকেল লেন । কিন্তু বাস্তবতা যেন ঠিক এর উল্টো, সাইকেল লেন দখল করে মোটরসাইকেল ও গাড়ি পার্কিং করা হচ্ছে যত্রতত্র, রমরমা ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ফুডকোর্ট ও ভাসমান দোকানগুলো।

দেশের কোন সড়কে লেন মেনে চলতে দেখা যায়না কোন যানবাহন। লেন ভঙ্গ করে গাড়ি চালানোর সংস্কৃতি যেন চালকদের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে মিশে গেছে। যার ফলস্বরূপ ঢাকার মহাসড়কগুলোতে দেখা যায় গাড়ির দীর্ঘ সারি। সুযোগ পেলেই চালকরা মেতে ওঠেন লেন ভঙ্গ করে যানবাহন চালানোর প্রতিযোগিতায়। প্রতিনিয়ত দেখা যায় বেপরোয়া যানবাহনের ধাক্কায় রাজধানীর মহাসড়কগুলোতে প্রাণ যাচ্ছে অনেক মানুষের।

এই মৃত্যুর মিছিল কিছুটা রুখতে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ঢাকার শহরের মহাসড়কগুলোতে সাইকেল লেন তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়া হয় । প্রকল্প টি আলোর মুখ দেখলেও বাস্তবিক অর্থে তাতে কোন সুফল মেলেনি । সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সামনে মানিক মিয়া এভিনিউতে প্রথমবারের মতো এই সাইকেল লেন চালু করা হয়, কিন্তু যেই লাইন দিয়ে সাইকেল চলাচল করার কথা সেখানে লেন দখল করে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল পার্কিং এর দৃশ্যই বেশি চোখে পড়ে। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঘুরতে আসা ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে এই লেন দিয়ে সাইক্লিং করা সম্ভব হয় না। এছাড়াও বিভিন্ন ফুচকা, চটপটি ও ফাস্টফুডের দোকান গুলি এই সাইকেল লেন ব্যবহার করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

মাঝে মাঝে সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে এসব দোকান সরিয়ে দেয়া হয় এবং সাইকেল লেন দখলমুক্ত করা হয়। অভিযান শেষ হলে দৃশ্যপট পরিবর্তন হতে বেশিক্ষণ সময়ে লাগেনা। প্রশাসন ও কর্মকর্তারা চলে গেলেই এসব অসাধু ব্যবসায়ী ও চালকদের দখলে চলে যায় সাইকেল লেন। এভাবে চলতে থাকলে যে সাফল্যের কথা চিন্তা করে এ সাইকেল লেন তৈরি করা হয়েছে, সেই সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে বলে মনে করছে সাইকেলিস্টরা।

মোঃ রাকিব নামের এক  সাইক্লিস্ট বললেন, ‘সরকার এত এত টাকা খরচ করে সাইকেল লেন বানাল। কিন্তু আমরা এর কোনো সুবিধা পাচ্ছি না। সুবিধা পাচ্ছে অবৈধভাবে পার্ক করে রাখা যানবাহনের মালিকেরা।’

এদিকে বছরের পর বছর ধরে মানিক মিয়ার রাস্তার পাশে ব্যবসা করে আসা ব্যবসায়ীরা আছেন শঙ্কায়। তাঁদের ভয়, এই লেনের কথা বলে আবার না তাঁদের উচ্ছেদ করা হয়! দু–তিনজন চটপটি ও ফুচকা বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, করোনাকালে তাঁদের ব্যবসা বলতে কিছু ছিল না। এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতেই উচ্ছেদ–আতঙ্কে ভুগছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসন এবং সিটি কর্পোরেশন এটির দিকে যদি সঠিক নজর না দেয় তবে নগরবাসী এর সফলতা ভোগ করতে পারবে না।

মন্তব্য লিখুন :