নদী পাড়ের মানুষের উল্লাস: দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবী

'দুধকুমার নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন’ প্রকল্প একনেকে পাশ হওয়ায় দুধকুমার নদী পাড়ের মানুষজন উল্লাস প্রকাশের পাশাপাশি দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দাবী জানিয়েছেন তারা।

জানাগেছে, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ী ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা সীমান্ত এলাকা দিয়ে দুধ কুমার নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করে তা নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতর দিয়ে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার আঁকাবাকা পথ অতিক্রম করে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুরে এসে ব্রহ্মপুত্র নদে মিলিত হয়।

ভূরুঙ্গামারীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া দুধকুমার নদী সারা বছর শান্ত থাকলেও বর্ষায় এর রুপ হয় অতি ভয়ঙ্কর। প্রতি বছর দুধকুমারের তান্ডবে গৃহহীন হয় শতশত পরিবার। গত কয়েক বছরে উপজেলার সদর ইউনিয়ন, চরভূরুঙ্গামারী, পাইকেরছড়া, বঙ্গ সোনাহাট, তিলাই, শিলখুড়ী, বলদিয়া ও আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের শত শত বসতভিটা, স্থাপনা, আবাদী জমি,গাছ পালা, স্কুল ও পাকা সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

দুধকুমার নদীর প্রতি বছরের এই তান্ডব থেকে নদী শাসনের স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহনের দাবীতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি দুধকুমার নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ কমিটি, ভূরুঙ্গামারী উন্নয়ন সংস্থা, আলোকিত বর্তিকাসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক ও স্বেচছা সেবক সংগঠন কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে।

গত ১০ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে 'দুধকুমার নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন’ প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৯২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। প্রকল্পটি চলতি বছরের জুলাই থেকে জুন ২০২৪ সালে বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয়েছে।

প্রকল্পটি পাশ হওয়ায় নদী তীরবর্তী মানুষ জন আনন্দে ভাসছে, ফেলছে স্বস্তির নি:শ্বাস। এলাকার মানুষ একনেক সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।যথাযথ ভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপজেলার নদী তীরবর্তী হাজার হাজার হেক্টর ফসলী জমি, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও অসংখ্য ঘর-বাড়ি ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাবে বলে ভুক্তভোগীরা অভিমত ব্যাক্ত করছেন।

উপজেলার বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের দুধকুমোর নদীর পাড়ের বাসিন্দা জুলহাস, আমির আলী ও মেহের আলী বলেন, এই দুধকুমোর নদী তিন বার তাদের বাড়ি ভেঙ্গেছে। আবাদী জমিও সব নদীতে। বর্তমানে যে বাড়িতে আছেন সেটাও নদীর কিনারে ভাঙ্গনের অপেক্ষায় আছে। এমন সময় নদী শাসনের কাজ হবে শুনে তারা আনন্দে আত্মহারা।

দুধকুমার নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শাহানারা বেগভ মীরা জানান, প্রধানমন্ত্রী একনেক বৈঠকে দুধকুমোর নদীর ভাঙ্গন রোধে পরিকল্পিত একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। এই নদীর দুই পাড়ের অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য  প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ঠ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, এটি আন্তর্জাতি নদী হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে প্রচুর পানি আসে এতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ১৫টি স্থানে প্রায় ২৫ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার এলাকায় কাজ হবে। চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন :