সখিপুরে ঝুঁকিপূর্ণ অসংখ্য বিদ্যুতের খুঁটি

টাঙ্গাইলের সখিপুরে কোথাও বাঁশ, কোথাও গাছকে বিদ্যুতের খুঁটি বানানো হয়েছে। কোথাও বাঁশ ভেঙে বিদ্যুতের তার মাটি ছুঁইছুঁই। কোথাও খেতের ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তার ফসল ছুঁয়ে আছে। বিদ্যুতের লাইনের এমন অব্যবস্থানার চিত্র দেখা যায় সখিপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চলে। এ অবস্থায় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সখিপুর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলায় বিদ্যুতের প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহক আছেন। প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছালেও স্বাভাবিক খুঁটি পৌঁছেনি। ফলে অনেক গ্রাহক এক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত নিজস্ব ব্যয়ে বাঁশ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ তাজা গাছকেও খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের কারণে কোথাও বাঁশ নড়বড়ে আবার কোথাও ভেঙে গেছে। ফলে গ্রামাঞ্চলের এসব গ্রাহক ঝুঁকিতে আছেন। মাঝেমধ্যেই বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে।

১০ আগস্ট বাড়ির পাশে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে কালিদাস নমপাড়া গ্রামের স্মৃতি রানী (৮) নামের এক শিশু অকালে প্রাণ হারায়। চলতি বছরের জুন মাসে কচুয়া গ্রামের শামসুল আলমের ছেলে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যান।

উপজেলার কচুয়া ও রামখা গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যুতের খুঁটির বদলে ব্যবহার করা হয়েছে মরা শাল-গজারিগাছ ও বাঁশ। আবার কোথাও তাজা গাছকেও খুঁটি হিসেবে ব্যবহার হয়েছে। মূল খুঁটি থেকে বাঁশের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছেন ওই সব এলাকার একাধিক বিদ্যুৎ গ্রাহক। কেউ কেউ আধা কিলোমিটার আবার কেউ এক কিলোমিটার পর্যন্তও মূল খুঁটি থেকে বাঁশ ও গাছকে খুঁটি বানিয়ে বিদ্যুতের তার টানিয়ে সংযোগ নিয়েছেন।

উপজেলার কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা আক্কাস আলী বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর আগে বাঁশকে খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছি। বিদ্যুতের খুঁটির জন্য বিদ্যুৎ কার্যালয়ে আবেদন করেও লাভ হয়নি। এ ছাড়া জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের পেছনে ঘুরেও খুঁটি বরাদ্দ আনতে পারিনি। বিদ্যুৎ নেওয়ার প্রয়োজনে বাঁশকে খুঁটি বানাতে আমরা বাধ্য হয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার কামাল  বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটির বদলে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাঁশ ও তাজা গাছ ব্যবহার করা হয়েছে। খুঁটির জন্য বারবার জানানো হলেও আমলে নেয়নি পিডিবি কর্তৃপক্ষ।

পিডিবির সখিপুর অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ) আনোয়ারুল ইসলাম বলেন,সখিপুরে দূরে দূরে বাড়িঘর থাকায় সব জায়গায় আমাদের খুঁটি দেওয়া সম্ভব হয়নি। গ্রাহকের প্রয়োজনে কেউ কেউ মূল খুঁটি থেকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে গ্রাহকেরা বাঁশ দিয়ে খুঁটি বানিয়েছেন। ঝুঁকি এড়াতে গ্রাহকের উচিত ছিল প্রতিবছর ওই খুঁটি বদলে নতুন খুঁটি লাগানো। আমরা পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যার সমাধান করছি। আশা করছি আগামী এক বছরেই গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকদের অত্যাধুনিক খুঁটি স্থাপন করে দেওয়া যাবে।

মন্তব্য লিখুন :