মনোহরদীর বেইলি ব্রিজের বেহাল দশা

মনোহরদী-কাপাসিয়ায় সিমান্ত এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজের বেহাল দশা। এ ব্রিজের স্টিলের পাটাতনে জং ধরে বিভিন্ন স্থানে ছিদ্র হওয়ায় দিন দিন চলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে।

পথচারীদের সতর্ক করতে সেই ছিদ্রতে কাঠ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিলো এবং ব্রিজের দুপাশে বাঁশ বেঁধে দেওয়া হয়ে ছিলো। তারপরও ব্রিজ পারাপারে ভারী ও হালকা যানবাহনের অবিরাম চলাচল করায় ছিদ্রের ও জং এ নষ্ট হওয়া পাটাতনের আকার দিন দিন বাড়ছে।

এ ছাড়া ব্রিজের মনোহরদী অংশের পাটাতন গুলো নড়বড়ে হয়ে গেছে। এটি পারাপারে কাঁপতে থাকে। যে কোন সময় মনোহরদী বাজার পাগলনাথ আশ্রম সংলগ্ন অংশ টুকু ব্রিজ ভেঙে পড়বে। সতর্কভাবে যানবাহন এবং লোকজন কোনো রকমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজ পারাপার হচ্ছেন।

এটি গাজীপুর জেলা, কাপাসিয়া, আড়ালবাজার, কামারগাঁও বাজার, ত্রিমোহনী, চালার বাজারের সঙ্গে মনোহরদী সদরের সংযোগকারী বেইলি ব্রিজ। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এবং মানুষের চলাচলের এই বেইলি ব্রিজটি দিনের পর দিন এমন দৈন্যদশায় থাকলেও এটি মেরামতের কোনো উদ্যোগই নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০১-০৬ সালে তৎকালীন সরকার মনোহরদী বাজারের ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর এ ব্রিজটি নির্মাণ করেন। ব্রিজ নির্মাণের পর হতে নদীর উভয় পার্শ্বের মধ্যে সেতুবন্ধ ঘটায় ব্যবসা-বাণিজ্যসহ যোগাযোগ ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে।

এরপর থেকে ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপর দিয়ে পার্শ্ববর্তী খিরাটী, সনমানিয়া, কামারগাঁও, আড়াল, চালা, কাপাসিয়া, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ সহ পার্শবর্তী জেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার সেতুবন্ধ হয়। সংস্কারের অভাবে ব্রিজটির পাটাতনের লোহায় জং ধরে জরাজীর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে। ব্রিজ পারাপারে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যানবাহন এবং এলাকাবাসী।

নামের এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিনিয়ত এ ব্রিজ দিয়ে হাজার হাজার যানবাহন এবং মানুষ যাতায়াত করেন। আর এই ব্রিজে উঠে ভয়ে থাকতে হয় কখন পা গর্তে পড়ে যায়।

আরেক পথচারী শামীম হোসেন বলেন, ব্রিজের পাটাতন ভেঙ্গে যাওয়ায় যাতায়াত করতে গিয়ে প্রায়ই হোঁচট খেতে হয় এবং ব্যবসা, চিকিৎসা, গবাদিপশু, পোল্ট্রি খামাররের খাবার সহ বিভিন্ন সুবিধা নিতে মনোহরদী সদরে ওপারের মানুষের আসতে হয়, ব্রিজের সমস্যার কারণে আমাদের অতিরিক্ত খরচের বোঝা বহন করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম কাসেম বলেন, ব্রিজের বিষয়ে আমার কিছুই জানা ছিলোনা, আপনার মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হইলাম। শিগগিরই পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন :