জেলে মোহাম্মদ মুসলিমের জীবন গল্প

মোহাম্মদ মুসলিম নামের এ জেলে অন্যান্য জেলেদের থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম। বেশি রোজগারের আশায় সব জেলেরা যখন মাছ ধরে বাড়ি ফিরে। তখনও মুসলিম মাছের আশায় মেঘনা নদীতে জাল ফেলে।

মাত্র আট বছর বয়সে বাবার হাত ধরে মাছ ধরতে নদীতে যাওয়া শুরু হয়েছিল। সংসারের অভাব মেটাতে আজ ও তাকে লড়াই করতে হচ্ছে।

মোহাম্মদ মুসলিম লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা চররমনী ইউনিয়ন গ্রামের মোহাম্মদ জয়নাল এর ছেলে। ছোট বেলা থেকে তার বাবার সাথে মাছ ধরতে মেঘনা নদীতে যান, ছোট্ট একটি নৌকা আর জাল নিয়ে মেঘনা নদীতে মাছ ধরেন।

মাছ ধরে সওদাগরদের নৌকায় দিয়ে দেন। হিসাব মেলে সপ্তাহ শেষে শনিবারে হাটের দিন। এ দিনই বাজার সদায় করে বাড়িতে বাবা ও বোনদের কাছে দিয়ে আবারও ফিরে যান নদীতে । নিজের খাওয়া দাওয়া, ঘুম সবই চলে নৌকায়। সারারাত জাল ফেলে মাছ ধরেন। সকালে কূলে ভেড়ান নৌকা। এরপর রান্না বান্না খাওয়া এবং ঘুম। এ যেন জলে ভাসা জীবন।

ঢাকা নিউজ৭১ এর কাছে এভাবেই নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরেন মেঘনা পাড়ের মোহাম্মদ মুসলিম, সংসারের অভাব মেটাতে কোনো উপায় না পেয়ে শেষ পযর্ন্ত মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

বেঁচে থাকার জন্য আমি নিত্য সংগ্রাম করে যাচ্ছি, এই সংগ্রাম কেবল কয়েক দিন বা রাতের নয়, আমি দিনের পর দিন এই সংগ্রাম করে যাচ্ছি। আসলে এমন মনে হয় জেলে হয়ে জম্মানোটাই একটি অভিশাপ। বর্তমানে বাবা বৃদ্ধ নদীতে মাছ ধরতে পারে না। পরিবারের চার বোন এক ভাই, রোজগার করার মতো কেউ না থাকায় একমাত্র আমি সম্বল ।  বোন দের আমার দেখা শুনা করতে হয়, দুই বোনের বিয়ে দিলাম। নিজে এখন ও বিয়ে করার চিন্তা করি নাই, অভাব অনাটন এর সংসারে বাবা অসুস্থ বোনদের সবাইকে বিয়ে দিয়ে পরে বিয়ে করবো।

এমন অল্প রোজগার খুব টানাপড়েন সংসারে। শীতে মাছ কম পড়ে, সারা সাপ্তাহে পাঁচ ছয় হাজার টাকার মতো মাছ পাওয়া যায়, তবে খরচা হয়ে যায়  দুই হাজার টাকার মতো।

এখন একটাই স্বপ্ন নিজে একটা বড় নৈাকা কিন্তে হবে, কিছুদিন আগে মোল্লার হাটে একটি নৌকা দেখলাম যার দাম একলক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। নৌকাটা যদি কিন্তে পারি তা হলে রোজগার আরো বাড়বে, নিজের নৌকা থাকলে সবখানে মাছ ধরতে পারবো, এখন নিদিষ্ট একটা স্থানে মাছ বিক্রি করতে হয়। নৌকা থাকলে লক্ষ্মীপুর জেলার সকল মাছ ঘাটে মাছ তুলতে পারবো। যখন যে স্থানে মাছ বেশি ধরা পড়ে ঐ দিকে গিয়ে মাছ ধরবো।

কথা বলতে বলতে বেরিয়ে এলো আরও অনেক তথ্য, বেশিরভাগ জেলেরই নিজের কোন জাল বা নৌকা নেই। তারা নৌকা ও জালের টাকা জোগাড় করে স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে ঋন নিয়ে। তাই জাল, নৌকা ও এমনকি ধৃত মাছের উপরে ও মহাজনদের পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকে।দারিদ্র জেলেরা সবসমই মহাজন বা ব্যাপারীদের দ্বারা শোষিত হয়।

ব্যাপারীদের কাছে আমরা যে দামে মাছ বিক্রি করি খোলা বা পাইকারি বাজারে প্রকৃতপক্ষে সেই মাছের দাম অনেক বেশি। আমরা কখনো মাছের প্রকৃত মূল্য পাইনা।

ঢাকা নিউজ৭১ কে একথা বলেন মুসলিম, সাধারন জেলেরা কখনই পাইকারীও খুচরা বিক্রিতা এবং ভোক্তাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ  করেন না। তারা স্থানীয় ঘাটে ব্যাপারীদের কাছে মাছ বিক্রি করেন। জেলেদের কাছ থেকে এই মাছ সংগ্রহে মধ্যস্থতা করে স্থানীয় আড়তদার। এরা নিলাম মূলোর ২-৫ শতাংশ অর্থ কমিশন হিসেবে নিয়ে থাকে।

মন্তব্য লিখুন :