হেফাজতের আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য নির্মাণ স্থগিত!

মুজিব শতবর্ষে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যের নির্মাণ কাজ স্থগিতাদেশের পর সরিয়ে নেয়া হয়েছে সব নির্মাণ সামগ্রী। রাজপথে সক্রিয় হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামী দলগুলোর আন্দোলনের মুখে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। 

শুক্রবার (২ এপ্রিল) গভীর রাতে নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে নেয় দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। এর আগে, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে পদ্মাসেতু দিয়ে ঢাকার প্রবেশমুখ রাজধানীর ধোলাইপাড় মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু হেফাজত ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল বিরোধিতা করলে সারাদেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর হেফাজতে ইসলামের প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকে বসে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা। এরই ধারাবাহিকতায় তখনই বন্ধ হয়ে যায় ভাস্কর্য নির্মাণ কাজ। 

ভাস্কর্য নির্মাণ সম্পর্কে ঢাকা-মাওয়া প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সবুজ উদ্দিন জানান, নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে নিয়ে আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। অনুমতি সাপেক্ষে কাজ আবার শুরু হবে। 

অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ফয়সাল আহমেদ বলেন, ধীরে ধীরে সব মালামাল সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শুনলাম কাজ আর হবে না। সেদিন নাকি অনেক রাতে প্রশাসনের লোকজন মালামাল সরিয়ে নিয়েছে।  

উল্লেখ্য, ১৯ নভেম্বর ২০২০ চরমোনাইর পীর ও ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম ভাস্কর্য নির্মাণের স্থল ঢাকার ধোলাইপাড় এলাকায় এক সমাবেশে বলেছেন, “ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপনের চক্রান্ত তৌহিদি জনতা রুখে দেবে। রাষ্ট্রের টাকা খরচ করে মূর্তি স্থাপনের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে ফিরে আসতে হবে। যদি সরে না আসে, তাহলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

একই দিনে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হক ঢাকার বিএমএ মিলনায়তনেএক অনুষ্ঠানে বলেন, “বঙ্গবন্ধুর মূর্তি স্থাপন বঙ্গবন্ধুর আত্মার সঙ্গে গাদ্দারি করার শামিল। যারা ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন করে তারা বঙ্গবন্ধুর সুসন্তান হতে পারে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন মুসলিম হিসেবে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। তার মূর্তি তৈরি করে রাস্তার মোড়ে মোড়ে স্থাপন করা হলে তা হবে তার আত্মার সঙ্গে বেইমানি।”

মন্তব্য লিখুন :