দুঃসময়ে বাঁকা চাঁদের ঈদ স্বস্তি

ইসলাম ধর্মের প্রধান উৎসব ঈদুল ফিতর। পবিত্র মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা শেষে আসে ঈদুল ফিতর। রমজান মাসের সমাপ্তিতে প্রতিটি মুসলিম পরিবার অপেক্ষায় থাকে আকাশে শাওয়াল মাসের নতুন বাঁকা চাঁদ দেখার। তবে গত বছরের মতো এবারও ঈদ এসেছে করোনার চলমান অতিমারির দুঃসহ সময়ে।

গতকাল বৃহস্পতিবার আকাশে দেখা যায় প্রতিক্ষার বাঁকা চাঁদের। তাই আজ শুক্রবার উদ্‌যাপিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর। এবারও অনেকের জীবনে ঈদের আনন্দে ছায়া ফেলছে অতিমারির নানা দুঃসংবাদ।

করোনা অতিমারির দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর এবারও রমজান মাসের শুরু থেকে দেশজুড়ে দেখা দেয় উদ্বেগ। সংক্রমণ আর প্রাণহানির সংখ্যা ওপরে উঠতে থাকায় সরকার আবারও গত বছরের মতো লকডাউন ঘোষণা করে।

এপ্রিলের মাঝামাঝি লকডাউন শুরু হয়। সরকার লকডাউনে নিয়ে আসে নানা ধরনের পরিবর্তন বা নিয়মকানুন। রোজার শেষ পর্যায়ে বিপণিবিতান খোলার অনুমতি দেওয়া হয়, স্থানীয় যানবাহন চলাচলের নিয়ন্ত্রণ অপেক্ষাকৃত শিথিল করা হয় তবে দূরপাল্লার বাস বন্ধ রাখা হয়েছে এই লকডাউনে।

এছাড়া ট্রেন-লঞ্চ রয়েছে বন্ধ। অপরদিকে দেশের বিমান চলাচলে কিছুটা শিথিল করা হলেও বিশ্বের সাথে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন বাংলাদেশ। এবার ঈদযাত্রায় স্টেশন-টার্মিনালে দীর্ঘ লাইন আর গিজগিজে ভিড়ের চিরাচরিত দৃশ্যটি ছিল না। কিন্তু ফেরিঘাটে গিয়ে গাদাগাদি করে ফেরি পার তো হতেই হয়, ফেরিঘাটের ভিড়ে পায়ের চাপায় হারাতে হয়েছে তাজা কয়েকটি প্রান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘাটের নিষেধাজ্ঞা অনেকটাই শিথিল করা হয়।

আমজনতার ঈদের মেজাজই আলাদা। মেজাজ বিগড়ে দেওয়া যানজট ঠেলে এ মার্কেট-সে মার্কেট ঘোরা, তুমুল দর–কষাকষি করে পছন্দের জিনিসটি কিনে জয়ীর অনুভূতি নিয়ে ঘরে ফেরা, সাধ আর সাধ্যের সমীকরণ মেলানোর জন্য গলদঘর্ম হওয়া, মসজিদে আর ঈদগাহে ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি। করোনার ঊর্ধ্বগতি সে আনন্দে বাদ সেধেছে। গত বছরের মলিন ঈদে অনেকে প্রত্যাশা রেখেছিলেন পরের বছরের করোনাবিহীন ঈদের অমলিন আনন্দে। তাঁদের প্রত্যাশা ভঙ্গ হয়েছে।

মানুষ তবু স্থির হয়ে থাকে না, তারা চলমান। ঘরের মধ্যেই সবাই তৈরি করে নিচ্ছে ঈদের আনন্দময় পরিসর। পরিবারের সঙ্গে ভাগ করছে নিকটজনদের উষ্ণতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোঁজ নিচ্ছে প্রিয় মানুষদের, টেলিভিশন আর অন্তর্জালের রঙিন বিনোদনের দুনিয়ায় মন সঁপে দিচ্ছে।

আবার কেউ কেউ বের হয়ে এসেছে এই দুঃসময়ে যারা অসহায়, তাদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিতে। কাউকে সহায়তা করছে চিকিৎসায়, কাউকে দিচ্ছে খাদ্য বা বস্ত্র। তাঁদের ব্যক্তিগত ঈদের আনন্দ মিশে যাচ্ছে অন্য আরও অনেকের স্বস্তি আর আনন্দের সঙ্গে। সংযমের কঠোর সাধনার পর ঈদের উৎসবের সৌন্দর্যই মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগে। সবার প্রত্যাশা, ঈদ স্বস্তি আর আনন্দের সৌন্দর্য নিয়েই যেন এসেছে।

এবারের ঈদে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে অগণিত মানুষ এই কাতর মিনতিই করেছে, পৃথিবী থেকে চিরতরে এই অতিমারির অবসান হোক। পৃথিবীতে আবার ফিরে আসুক মানুষের কোলাহলমুখর সজীব জীবনযাত্রা। উৎসবের চিরচেনা পরিবেশ হয়ে উঠুক মানুষের সঙ্গে মানুষের মিলনের অনুপম এক ছবি।

মন্তব্য লিখুন :