ইয়াস আর পূর্ণিমার প্রভাবে দেশের উপকূল প্লাবিত

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ইয়াস উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও শক্তিশালী হয়েছে। ইয়াস-এর সঙ্গে পূর্ণিমার প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল স্বাভাবিকের চেয়ে উঁচু জোয়ারের মুখে পড়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১১ কিলোমিটার। এটি  দমকা বাতাস হিসেবে ১২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলে হয়েছে, পূর্ণিমার প্রভাবে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর ও চট্টগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৪ ফুট বেশি জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হতে পারে।

পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে সাইক্লোন ইয়াসের অগ্রভাগের প্রভাব শুরু হয়েছে। এটি অতিক্রমকালে স্থলভাগে বাতাসের গতিবেগ হতে পারে প্রায় ১১০-১৩০ কিলোমিটার। ঝড়টি রাত ১০টা থেকে ১১টায় অতিক্রম করতে পারে। সমুদ্র বন্দর সমূহকে ০২(দুই) নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন থেকে উপকূলীয় মানুষদের এবং গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল ট্রলার ও নৌকাসমূহকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়েছে। জেলার ৮০৩ টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত আছে। দুর্যোগকালীন ও পরবর্তী সময়ের জন্য পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, পানি, স্যালাইন, ওষুধ মজুদ রাখা হয়েছে।

৯৩ টি মেডিকেল টিমসহ নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, আনসার, রেড ক্রিসেন্ট, স্বেচ্ছাসেবক দল ও সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে জেলায়। দুর্যোগ মোকাবেলায় সার্বিক সমন্বয়ের জন্য ইতোমধ্যে জেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষটি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে।

মন্তব্য লিখুন :