১২ শিশুকে পরীক্ষা, সবার শরীরেই ডেলটা ভেরিয়েন্ট

চট্টগ্রামে কোভিড-১৯ আক্রান্ত শিশুদের করোনার জিনোম সিকোয়েন্সে শতভাগের শরীরেই ভারতীয় ধরন ‘ডেলটা ভেরিয়েন্ট’ শনাক্ত হয়েছে। গত জুন থেকে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ১২জন শিশুর শরীর নমুনা সংগ্রহ করার পর এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে আসে।

এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় নবজাতক থেকে ১৬ বছর বয়সী (স্কুলগামী) কোভিড-১৯ আক্রান্ত শিশুদের।

গবেষণায় প্রাপ্ত সিকোয়েন্স-ডেটা জার্মানি থেকে প্রকাশিত ভাইরাসের আন্তর্জাতিক তথ্যভাণ্ডার সংস্থা ‘গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটা’-তে গৃহীত হয়েছে।

রোববার রাতে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের প্রধান ডা. আবদুর রব মাসুম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে আগত এবং ভর্তিকৃত ১২ জন শিশুর নমুনার জিনোম সিকুয়েন্সে শতভাগের শরীরে ‘ডেলটা ভেরিয়েন্ট’ শনাক্ত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, আক্রান্ত শিশুদের ৮০ ভাগেরই বয়স ১০ বছরের নিচে। সর্বনিম্ন আট মাস বয়েসের শিশুর মাঝে  ডেলটা ভেরিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে।

এই গবেষকদলের অন্য গবেষণা অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক কোভিড-১৯ রোগীদের মাঝে ৮০ ভাগ রোগী পুরুষ হলেও শিশুদের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। মেয়ে শিশুরাও সমানভাবে এই ভেরিয়েন্টে সংক্রমিত ও আক্রান্ত হচ্ছে। ৫০ ভাগ ছেলে শিশু এবং ৫০ ভাগ মেয়ে শিশুর মধ্যে এই ভেরিয়েন্ট এর উপস্থিতি দেখা গেছে। ৯৫ ভাগ শিশুর মাঝেই জ্বরের লক্ষণ এবং ৭০ ভাগ শিশুর সর্দি ও কাশি ছিল। এর মধ্যে একজন শিশু পুরোপুরি উপসর্গহীন ছিল।

গবেষণায় নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. এইচএম হামিদুল্লাহ মেহেদী ও ডা. আবদুর রব মাসুম এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চিকিৎসক ও অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় কান্তি বিশ্বাস ও ডা. নাহিদ সুলতানা। সার্বিক পরিকল্পনায় ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক ড. আদনান মান্নান।

গবেষকদলে আরও ছিলেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মো. মিনহাজুল হক, রাজদীপ বিশ্বাস ও আকরাম হোসেন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ডা. ফাহিম হাসান রেজা। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) ভাইরোলজি বিভাগের গবেষকদল। এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিজ্ঞানী ড. মুস্তাফিজুর রহমান এবং ড. মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন।

মন্তব্য লিখুন :