প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষকের ভূমিকা

শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। অন্য যে কোন পেশা থেকে এই পেশাটি আলাদা।  এর কোনো তুলনা হয় না। তাই শুধু এটিকে পেশা হিসেবে নিলে চলবে না, এর সাথে নেশাও থাকতে হবে। তাকে জাতির উন্নয়নের জন্য সবসময় ভাবতে হবে এবং কাজ করে যেতে হবে।

আজ যারা শিশু তারা আগামী দিনের ভবিষ্যত, দেশের সর্বস্তরে তারা বিরাজ করবে। তাই  উন্নত জাতি ছাড়া উন্নত দেশ গঠন করা সম্ভব নয়। তাই উন্নত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম লিখতে চাইলে শিক্ষকদেরকে হতে হবে কঠোর পরিশ্রমি, শিক্ষার্থীদের কে স্বপ্ন দেখাতে হবে।শিশুর সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ সাধন করতে হবে। বড় বড় মনীষীর জীবন কাহিনী শোনাতে হবে। আমাদের দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও  অনেক মেধাবী শিশু আছে  সেগুলো খুঁজে বের করতে হবে  এবং শিক্ষকদের শ্রম ও মেধা ব্যবহার করে সমস্ত শিশুদের বিকাশ ঘটাতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও দেশপ্রেম থাকতে হবে। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে স্বাধীন করার মহান ব্রত নিয়ে সমগ্র বাঙালি জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, এবং অল্প সময়ের মধ্যে অর্থাৎ মাত্র নয় মাস যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিল এটা সম্ভব হয়েছিল দেশ প্রেমের কারণে। তাই প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন করতে হলে, শিক্ষকদের মধ্যে থাকতে হবে দেশ প্রেম ও আন্তরিকতা । শিক্ষার্থীদেরকে নৈতক শিক্ষায়  শিক্ষিত করে তাদের ভালো মানুষ হিসেবে এবং দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

শিশুরা যদি দেশকে ভালোবাসে এবং শিক্ষকদের যদি দেশপ্রেম থাকে তাহলে দেশের  মানুষকে বিশ্বের বুকে উন্নত জাতি হিসেবে পরিচিত করতে বেশি বেগ পেতে হবে না।  শিক্ষকদের একবার ভাবা উচিত, যে আমরা আজ শিক্ষক হয়েছি এর পিছনে এদেশের সরকার, জনগণ, সমাজ, পরিবার, সর্বোপরি মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা শহিদ হয়েছেন তাঁদের অনেক অবদান রয়েছে। কারণ মুক্তিযোদ্ধারা যদি তাঁদের জীবনের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা না দিত তবে আজ আমরা শিক্ষক হতে পারতাম না। আমরা সারাজীবন পাকিস্তানীদের গোলাম হয়ে তাদের সেবার কাজে নিয়োজিত হতাম।

আজ আমরা শিক্ষক, আমরা আমাদের সন্তানদের শেখাবো এটা যে কত বড় সম্মান করবে তা আমরা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। শিক্ষকদের উচিত জাতীয় দিবসগুলো যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করা। শহীদ দিবসে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তাদের জন্য দোয়া করা, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও অন্যান্য দিবস উদযাপন করা। যদি দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জাতীয় দিবসের দিন গুলোতে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে, তাহলে তারা আমাদের ইতিহাস জানতে পারবে। জানতে পারবে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের উৎপত্তি ইতিহাস।

জাতীয় দিবসগুলোতে র্যালী চিত্রাঙ্কন আবৃতি ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে এবং সকল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থান ও নিদর্শন গুলো সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান লাভের জন্য প্রতিবছর শিক্ষা সফরের ব্যবস্থা করতে হবে। 

শিক্ষক হতে হবে সময়ানুবর্তী।  ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, time and tide wait for none, অর্থাৎ সময় এবং নদীর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন করতে চাইলে শিক্ষকগণকে সময়মত সব কাজ করতে হবে। কাজ আগামী দিনের জন্য ফেলে রাখা যাবে না। নিয়মিত সমাবেশ করতে হবে শিক্ষক যদি নিয়মিত বিদ্যালয়ের সমাবেশের আয়োজন করে তাহলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষকগণকে নিয়মিত হোম ভিজিট করতে হবে, একজন শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত নেই ওই মুহূর্তে ফোন করে  অভিভাবকের সাথে কথা বলে শিক্ষার্থী কেনো বিদ্যালয় আসেনি তা জানাতে হবে  এবং শিক্ষার্থীর কি হয়েছে তাও খোঁজ নিতে হবে। এর ফলে ওই শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মধ্যে একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি হবে যা প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে।

এছাড়া একজন শিক্ষক যখন হোম ভিজিট করার জন্য শিক্ষার্থীর বাড়িতে যান তখন অভিভাবক অনেক সচেতন হন। শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর মানসিক উন্নয়নে শিক্ষকের ভূমিকা রাখতে হবে।


লেখক

মোঃআবদুল হাই খান

প্রধান শিক্ষক,

পশ্চিম পাখীউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়


মন্তব্য লিখুন :