অপার সম্ভাবনার বঙ্গোপসাগর

সমন্বিতভাবে খনিজ ও মৎস্য সম্পদ আহরণে বদলে যেতে পারে অর্থনীতি

বাংলাদেশের অর্থনীতি বেগবান বা সমৃদ্ধশালী করার জন্য যে কয়টি অর্থকরী খাত রয়েছে এর মধ্যে মৎস্যখাত অন্যতম। দেশ স্বাধীনের প্রায় ৫০ বছর গত হতে চলেছে।

অভ্যন্তরীন মৎস্য খাতকে বেগবান করে মৎস্য খাতে বিপ্লব সূচিত হলেও বঙ্গোপসাগরের বিপুল মৎস্য ভান্ডার রয়েছে অরক্ষিত ও উপেক্ষিত। সাগরের বিশাল মৎস্য ভান্ডার হতে পরিকল্পিতভাবে ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে মৎস্য আহরণ করা গেলে আমাদের সুনিল অর্থনীতি আরো সমৃদ্ধশালী হত। নানা কারণে আমাদের সুনিল অর্থনীতি আজ হুমকির মুখে। জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রদূষণ, সমুদ্র নিরাপত্তা, খনিজ ও মৎস্য সম্পদ আহরণে তৎপর না হওয়াসহ অনেক কারণে সম্ভবনার এই খাতটি বেগবান করা যাচ্ছে না বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

জাপান, তাইওয়ান, মায়ানমার, থাইল্যান্ড ও ভারতসহ বহু দেশ তাদের সমুদ্র সম্পদ আহরণ করে অর্থনীতিকে সমৃদ্ধশালী করেছে। ওইসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে রয়েছে। সরকারিভাবে নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহন করার কথা বলা ও কার্যক্রম গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাস্তবে এর কোন প্রতিফলন তেমন দেখা যায়নি।

মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার আওতায় শুধুমাত্র মা ইলিশ সংরক্ষণ ও জাটকা নিধন বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হলেও অন্যান্য প্রজাতির মাছ নির্বিচারে শিকার ও রেনু পোনা আহরণের ফলে উপকুলীয় এলাকায় মৎস্য শূণ্য হয়ে পড়েছে। বিপন্ন হয়ে পড়েছে মৎস্য প্রজনন প্রক্রিয়া। গত ৩০-৪০ বছর পূর্বে উপকুলীয় অববাহিকায় যে পরিমান মাছ পাওয়া যেত এখন একদম নেই বললেই চলে। এর অন্যতম কারণ অপরিকল্পিত ভাবে মৎস্য আহরণের নামে মৎসের উৎস নিধন এবং জলবায়ু পরিবর্তন।

উপকুলীয় এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোষ্টগার্ড ও পুলিশ সার্বক্ষনিক পাহারায় নিয়োজিত থাকলেও মৎস্য আহরণে শৃঙ্খলা ফেরেনি। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে নির্বিচারে রেনুপোনা আহরণের সময় শত শত প্রজাতির অন্যান্য মাছের রেনু-ডিম ও ছোট মাছের পোনা অবাধে নিধন করে চলেছে, যা আজও ঠেকানো যায়নি।

মাঝেমধ্যে কোষ্টগার্ড ও পুলিশের ২/১ টি অভিযান পরিচালিত হলেও অবৈধভাবে মৎস্য নিধন থেমে থাকেনি, যা এখনও চলমান রয়েছে। সরকারিভাবে নানামুখি তৎপরতা গ্রহন করা হলেও মৎস্য নিধনের মহোৎসব চলছে। এটা ঠেকানো বন্ধ করা না গেলে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে উপকুলীয় নদনদী মৎস্য শূণ্য হয়ে পড়বে বলে বিশেষজ্ঞগন মনে করেন।

দেশের টেকনাফ থেকে কয়রা পর্যন্ত সমগ্র উপকুলীয় এলাকায় নৌবাহিনী, কোষ্টগার্ড, পুলিশ ও সুন্দরবনের বনরক্ষিদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ট্যাস্কফোর্স গঠন করে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। উপকুলীয় এলাকায় মৎস্য আহরণ ও জীবীকার সাথে সংশ্লিষ্ট জেলেদের তালিকা প্রনয়ন করতে হবে। বিশেষ করে রেনু পোনা শিকারী ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

এই পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট জেলেদের রেনু পোনা আহরণে নিরুৎসাহিত করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। এতে মৎস্য ভান্ডারখ্যাত উপকুলীয় এলাকায় মৎস্য সম্পদ আগেরমত বৃদ্ধি পাবে।


এ্যাডভোটেক শাহনেওয়াজ আলী

পরিবেশবিদ ও উপকুলীয় জোটের আহবায়ক


মন্তব্য লিখুন :