দ্রুতই সাগরের বুক থেকে হারিয়ে যাবে ৫৩ প্রাণ

বালি দ্বীপের কাছে নিখোঁজ ইন্দোনেশীয় সাবমেরিনের এখনও কোনও খোঁজ নেই। অথচ হাতের সময় একেবারে ফুরিয়ে এসেছে। শিগগিরই এর সন্ধান না মিললে সাগরের বুকেই ৫৩ নাবিকের সমাধি হয়েছে ধরে নিতে হবে। অবশ্য সাবমেরিনটি যদি এরই মধ্যে পানির চাপে বিধ্বস্ত হয়ে থাকে, তাহলে সেই আশাটুকুও থাকছে না। (সূত্রঃ দৈনিক ইনকিলাব)

বুধবার (২০ এপ্রিল) ইন্দোনেশীয় সাবমেরিন বহরের সঙ্গে টর্পেডো ড্রিল চালাতে গিয়েছিল ৪৪ বছর বয়সী নাংগালা-৪০২ সাবমেরিনটি। তবে মিশন আশানুরূপ হয়নি। হঠাৎ যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সেটি। এরপর থেকেই শুরু হয় জোর অনুসন্ধান।

সাগরের বুকে সাবমেরিন খুঁজতে ইন্দোনেশিয়া সাহায্য চায় সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়ার। এতে যোগ দেয় ভারত-মালয়েশিয়াও। সবশেষ এই উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পি-৮ পসেইডন উড়োজাহাজ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর অনুসারে, নিখোঁজ সাবমেরিনটি যদি এখনও অক্ষত থাকে তবে এর ভেতর যে অক্সিজেন রয়েছে তাতে শনিবার ভোর পর্যন্ত বাঁচার কথা নাবিকদের।

ইন্দোনেশীয় সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আচমাদ রিয়াদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এখন পর্যন্ত আমরা এটি খুঁজে পাইনি... তবে যে সরঞ্জাম রয়েছে তাতে [সাবমেরিনের] অবস্থান শনাক্ত হওয়া উচিত।

ইন্দোনেশীয় বিমানবাহিনীর এক পাইলট জানিয়েছেন, প্রায় ছয় টনের যন্ত্রপাতির পাশপাশি ডুবো বেলুন ঘাঁটিতে পৌঁছেছে। সেগুলো সাবমেরিন টেনে তুলতে সাহায্য করবে।

ইন্দোনেশীয় নৌবাহিনী জানিয়েছে, সাবমেরিনটি বৈদ্যুতিক ক্ষমতা হারিয়ে গভীরতার সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার সময় জরুরি ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছিল কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে।

দেশটির নৌবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ইয়ুদো মার্গোনো বলেছেন, সাগরের ৫০ থেকে ১০০ মিটার গভীরতায় ‘উচ্চ চুম্বকীয় শক্তি’ সম্পন্ন একটি বস্তু ‘ভাসতে’ দেখা গেছে। তাছাড়া সাবমেরিনটিকে সবশেষ দেখতে পাওয়া জায়গায় তেল ভাসতে দেখা গেছে।

ইন্দোনেশীয় নৌবাহিনীর মুখপাত্র জুলিয়াস উইজ্জজোনো জানান, ডিজেল-ইলেক্ট্রিক শক্তিতে চালিত সাবমেরিনটি ৫০০ মিটার ( ১ হাজার ৬৪০ ফুট) গভীরতায় টিকে থাকতে পারে, তবে এর নিচে চলে গেলে ফলাফল ভয়ঙ্কর হবে। ভয়ের বিষয় হচ্ছে, বালি সাগরের গভীরতা কিছু কিছু জায়গায় দেড় হাজার মিটারেরও বেশি।

তবে ইন্দোনেশিয়ার একজন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ বলেছেন, সাবমেরিনের নাবিকদের এখনও জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেটি যদি সাগরের ৭০০ মিটার এলাকায়ও থাকে তবে তাদের বেঁচে থাকা কঠিন। কারণ পানির চাপে ইস্পাতের আবরণে ফাটল ধরতে পারে।

মন্তব্য লিখুন :