লঙ্কানদের হারিয়ে ইতিহাস রচনা টাইগারদের

বাংলাদেশের কাছে অপরাজেয় থাকা লঙ্কানদের দাম্ভিকতা চূর্ণ করে ইতিহাস সৃষ্টি করল মুশফিক-মিরাজ মুস্তাফিজরা। এর আগে বাংলাদেশের কাছে কখনো সিরিজ না হারা লঙ্কানরা এবার স্বাদ পেলো সিরিজ হারের। এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ সিরিজ নিশ্চিত করলো টাইগাররা।

প্রথম ম্যাচে জয়ের পর নির্ভার থাকা বাংলাদেশ দল আজ দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে। ইতিহাস সৃষ্টির সুযোগ নিয়ে এই ম্যাচে মাঠে নামে টাইগাররা। কখনো যা করতে পারেনি বাংলাদেশ আজ তা করে দেখানোর সুবর্ণ সুযোগ হাতছানি দিয়ে ডেকেছিলো টাইগারদের। প্রথম ম্যাচে জেতার পর নির্ভার থাকা টাইগাররা এই ম্যাচে জয়ের লক্ষে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে দর্শকদের প্রত্যাশা মেটাতে এ ম্যাচেও ব্যর্থ  লিটন দাস। তৃতীয় ওভারেই চামারর জোড়া শিকারে পরিণত হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান তামিম ও সাকিব। দলীয় ৪৯ রানে ২৫ রান করা লিটন সানদাকানের শিকার হয়। 

মোহাম্মদ মিঠুন এর জায়গায় সুযোগ পাওয়া মোসাদ্দেক সৈকত সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়, আউট হয় ১০ রান করে। বাংলাদেশ দল ৪ উইকেটে ৭৪ রান নিয়ে যখন ধুঁকছিল তখন আবারো সেই মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ ব্যাটিং দৃঢ়তায় শুরুর চাপ সামাল দিয়ে ম্যাচে ফেরে। দুজন মিলে তৈরি করে ১০৮ বলে ৮৭ রানের জুটি। কিছুক্ষণ পরে দলীয় ১৬১ রানে ৪১ রান করে মাহমুদুল্লাহ ফিরে গেলে আর কেউ মুশফিককে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেনি, একাই লড়াই করে যায় লঙ্কান বোলারদের বিরুদ্ধে। তুলে নেন ক্যারিয়ারের অষ্টম ওডিআই সেঞ্চুরি। আফিফ, মিরাজ, সাইফদের ব্যাটিং ব্যর্থতায় মুশফিকের ১২৫ রানে ভর করে ২৪৭ রানের  চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দাঁড় করায় লঙ্কানদের সামনে।

মাঝারি টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দেখেশুনে শুরু করে লঙ্কান ওপেনার গুনাথিলাকা ও কুশল পেরেরা। তাদের দুজনের ২৩ রানের জুটি ভেঙ্গে ব্রেক থ্রু এনে দেন প্রথম ম্যাচে সুযোগ না পাওয়ায় শরিফুল ইসলাম, প্যাভিলিয়নে পাঠান ১৪ রান করা কুশাল পেরেরা কে। কিছুক্ষণ পরে লঙ্কান ডেরায় আঘাত হানেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান আউট করেন ২৪ রান করা গুনাথিলাকাকে। পাথুম নিসহাকা শাকিবের প্রথম শিকার পরিণত হলে বাকি লঙ্কানরা আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দেয়। মেহেদী হাসান মিরাজ ১০ ওভার বল করে ২.৮০ ইকোনমিতে ২৮ রান খরচায় ৩ উইকেট ভরে। মুস্তাফিজ ৬ ওভার বল করে ১৬ রান দিয়ে তিন উইকেট নেয়। 

আর সাকিব ৯ ওভারে ৩৮ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়ে লঙ্কানদের নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে । লঙ্কান ইনিংসের ৩৮ তম ওভারে বৃষ্টি শুরু হলে খেলা শুরু হতে কিছুক্ষণ বিলম্ব হয়। বৃষ্টি থামলে লঙ্কানদের সামনে নতুন টার্গেট দাঁড়ায় ৪০ ওভারে ২৪৫। রান। লঙ্কানরা ৯ উইকেট এর বিনিময় ১৪১ রান তুলতে সক্ষম হয়। যার ফলে বাংলাদেশ ১০৩ রানের বিশাল জয় পায়। এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন এশিয়ার সকল ক্রিকেট পরাশক্তির বিরুদ্ধে সিরিজ জয়ের মর্যাদা অর্জন করেছে, তৈরি করেছে নতুন এক ইতিহাস।

মন্তব্য লিখুন :