যৌন হয়রানির অভিযোগ নেইমারের অস্বীকার

সম্প্রতি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমারকে নিয়ে এক বিতর্কিত ঘটনা সামনে আনে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ক্রীড়া সামগ্রী নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান নাইকি। নেইমারের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে নাইকির এক অনুষ্ঠানে এক নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ গুরুতর হওয়ায় নেইমারের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ আসবে এটা ধরেই নেয়া হয়েছিল।

বিখ্যাত ক্রীড়া সামগ্রী নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানটির এক নারী কর্মীকে যৌন হয়রানি অভিযোগ আনা হয় নেইমারের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার তদন্তে নেইমার সহযোগিতা না করায় তার স্পনসরশীপ বাতিল করে নাইকি।

এই ঘটনায় নেইমারের পক্ষ থেকে বিবৃতি এলো সাথে সাথেই। স্পন্সরশিপ বাতিলের পিছনে নাইকি যে কারণ জানিয়েছে তাকে ভিত্তিহীন মিথ্যা বলে জানিয়েছে নেইমার।

গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল নেইমারকে নিয়ে বিতর্কিত এই ঘটনা প্রকাশ করে। ২০১৬ সালে নিউইয়র্কে নাইকির এক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন নেইমার। তখন হোটেলে নিজের কামরায় জোর করে সেই কর্মীকে যৌন হয়রানি করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। নিজের বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীদের ঘটনাটা বলেন সেই নারী কর্মী। ২০১৮ সালে এ নিয়ে অভিযোগ করেন তিনি। 

নাইকি পরের বছর এই অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেয় একটি আইনি প্রতিষ্ঠানকে। তদন্ত চলাকালে নাইকির বিপণন ও প্রচারে নেইমারকে দেখা যায়নি। সর্বশেষ গত বছর আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ বছরের দীর্ঘ সম্পর্কের ছেদ টানে দুই পক্ষ।

নেইমার এখন ব্রাজিলে কোপা আমেরিকা সামনে রেখে রিও ডি জেনিরোয় জাতীয় দলের সঙ্গে অনুশীলন করছেন তিনি। এবার ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবাদ জানালেন। 

ইনস্টাগ্রামে নেইমার লিখেছেন, ‘আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই ব্যক্তির সঙ্গে এমন কোনো সম্পর্ক আমার কখনোই ছিল না, তাকে এমন কোনো প্রস্তাবও দেওয়া হয় না। তার সঙ্গে তো আমার কথাই হয়নি! তার সমস্যা কী, তা জানতে কথাও বলার সুযোগ পাইনি। সেই কর্মী সুরক্ষিত ছিল না, একজন স্পনসরড অ্যাথলেট হিসেবে আমিও সুরক্ষিত ছিলাম না।’

ইএসপিএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই নারী কর্মী নাকি শুরুতে ঘটনাটা গোপন রাখতে চেয়েছিলেন। নাইকি ২০১৯ সালে নেইমারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল সেই কর্মী আইনি পদক্ষেপ নিতে ইচ্ছা প্রকাশের পর। 

নেইমার এই ঘটনাটা অস্বীকার করে ইনস্টাগ্রামে আরও লিখেছেন, ‘আমি বুঝতে পারি না, কাগজপত্র দ্বারা সমর্থনযোগ্য একটি ব্যবসায়িক সম্পর্ককে একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠান কীভাবে নষ্ট করতে পারে। লিখিত কথা পাল্টানোর তো কোনো সুযোগ নেই। ভাগ্যের কী পরিহাস, যারা আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, সেই ব্র্যান্ডকে বুকে (ব্রাজিল দলের স্পনসর নাইকি) রেখে চলতে হবে। এটাই জীবন! তবে আমি শান্ত এবং শক্ত আছি। এটা বিশ্বাস করি, সময়, এই নির্মম সময় একসময় সত্যটা বের করে আনবে।’

মন্তব্য লিখুন :