এতো প্রাপ্তির মাঝেও দুটি ‘আফসোস’ রয়ে গেছে শচিনের

ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় কে তা নিয়ে কিছুটা বিতর্ক থাকলেও ভারতে রীতিমতো ক্রিকেট ঈশ্বর হিসেবেই মানা হয় মাস্টার ব্লাস্টারখ্যাত শচিন টেন্ডুলকারকে। প্রায় সব বড় রেকর্ডই নিজের থলেতে পুরেছেন শচিন। সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি সহ, দুই শ টেস্ট ম্যাচ, ৩৪ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক রান, যে ক্রিকেটারের দখলে তাকে সর্বকালের সেরা  ক্রিকেটার বলা যেতেই পারে।  

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন ফরম্যাট মিলে খেলেছেন ৬৬৪ ম্যাচ। বিশ্বের আর কোন ক্রিকেটার তার চেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি । লিটল মাস্টারের নামের পাশে রয়েছে ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি, রয়েছে ১৮ হাজারের বেশি রান। টেস্ট ফরম্যাটে ৫১ সেঞ্চুরিতে করেছেন ১৫ হাজারের বেশি রান। এক শ সেঞ্চুরি ছাড়াও রয়েছে ১৬৪ হাফসেঞ্চুরি। যার ধারেকাছেও নেই বিশ্বের আর কোনও ক্রিকেটার।

শুধু তাই নয়, ২০১১ সালে তার হাত ধরেই বিশ্বকাপ জয় করে ভারতীয় দল। সবমিলিয়ে পরিপূর্ণ এক ক্যারিয়ারই শচিনের। তবু নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে দুইটি আফসোস-আক্ষেপ রয়েই গেছে ক্রিকেট ঈশ্বরের। সম্প্রতি ক্রিকেট ডট কমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন সেই কথা। তবে কোনও প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির আফসোস নয় শচিনের।

বরং ভারতেরই আরেক কিংবদন্তি সুনিল গাভাস্কার এবং নিজের ছেলেবেলার নায়ক ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান স্যার ভিভ রিচার্ডসের সঙ্গে খেলতে না পারার আফসোসে পোড়েন শচিন। এতে তার নিজেরও অবশ্য দায় নেই। কারণ শচিনের ক্যারিয়ার শুরু হতে হতে গাভাস্কার ও রিচার্ডস পৌঁছে গিয়েছিলেন নিজেদের ক্যারিয়ারের অন্তিম লগ্নে।

এদের কথা জানিয়ে শচিন বলেছেন, ‘আমার দুইটি আফসোস রয়েছে। প্রথমটা হল আমি কোনওদিন সুনিল গাভাস্কারের সঙ্গে খেলতে পারিনি। আমি যখন বড় হই, তখন গাভাস্কারই ছিলেন আমার ব্যাটিংয়ের নায়ক। তার সঙ্গে এক দলে খেলতে না পারা আমার বড় আফসোস। আমার অভিষেকের কয়েক বছর আগেই তিনি অবসরে চলে যান।’

দ্বিতীয় আফসোসের ব্যাপারে তার ভাষ্য, ‘আমার অন্য আফসোস হলো, ছেলেবেলার নায়ক স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডসের বিপক্ষে খেলতে না পারা। কাউন্টি ক্রিকেটে তার বিপক্ষে খেলার সৌভাগ্য হয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে না পারার আফসোস এখনও পোড়ায় আমাকে। যদিও স্যার ভিভ ১৯৯১ সালে অবসর নিয়েছেন কিন্তু আমাদের কখনও মুখোমুখি দেখা হয়নি।’

মন্তব্য লিখুন :