ব্যাটসম্যানদের আত্মহুতি, ১৩১ রানের স্বল্প পুঁজি

টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে শতভাগ সঠিক প্রমাণ করলো  ম্যাথু ওয়েডের অস্ট্রেলিয়া। জাম্পা, স্টার্কদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে আত্মহুতি দিয়েছে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা। নাঈম শুরুটা বড় করলেও স্ট্রাইকরেট বাড়াতে আর ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ। এরপর সাকিব আল হাসান ভরসা যুগিয়ে গেছেন দলকে। শেষের দিকে আফিফ হোসেনের দাপুটে ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৭ উইকেটে ১৩১  রান।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে আজ মঙ্গলবার টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানায় অস্ট্রেলিয়া। মিচেল স্টার্কের করা ইনিংসের দ্বিতীয় বলে ছক্কা মেরে নিজের ও দলের রানের খাতা খোলন নাঈম শেখ। ওই ওভারে আর কোনো রান দেননি স্টার্ক। পরের ওভারে হ্যাজেলউড দেন ২ রান। তৃতীয় ওভারেই জাম্পাকে দিয়ে স্পিন আক্রমণ শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। শুরু থেকেই নড়বড়ে ছিলেন সৌম্য সরকার। চতুর্থ ওভারের তৃতীয় বলে তাকে বোল্ড করে দেন জোস হ্যাজেলউড। শরীর বরাবর আসা বলটি ৯ বলে ২ রান করা সৌম্যর ব্যাট ছুঁয়ে স্টাম্পে গিয়ে লাগে।

পঞ্চম ওভারে আবার স্টার্ক আসেন বোলিংয়ে। আবারও তার ওভারের দ্বিতীয় বলে মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকান নাঈম। এবার বল গিয়ে পড়ে গ্যালারিতে। অস্ট্রেলিয়ার জৈব সুরক্ষার শর্ত অনুযায়ী সেই বল আর ব্যবহৃত হয়নি। নতুন বল দিয়ে খেলা শুরু হয়। উইকেটে সেট হয়ে যাওয়া নাঈমকে থামান জাম্পা। তার বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান ২৯ বলে ২ চার ২ ছক্কায় ৩০ রান করা নাঈম। ৭ম ওভারে দলীয় ৩৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন দুই সিনিয়র সাকিব আর মাহমুদউল্লাহ। অ্যাস্টন আগারের বলে মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ ছাড়েন টার্নার। ৩১ বলে ৩৬ রান তোলা এই জুটি ভাঙে মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে। ১৩তম ওভারে হ্যাজেলউডের বলে ম্যাট হেনরিকসের তালুবন্দি হন ২০ বলে ১ ছক্কায় ২০ রান করা মাহমুদউল্লাহ।

উইকেটে আসেন নুরুল হাসান সোহান। তবে এদিন তিনি ভরসা জোগাতে পারেননি। অ্যান্ড্রু টাইয়ের বলে ৩ রানে ধরা পড়েন মিচেল মার্শের হাতে। উইকেটে আসেন আফিফ। সাকিব খেলছিলেন সাবলীল। ১৭তম ওভারে তাকে বোল্ড করে দেন হ্যাজেলউড। ৩৩ বলে ৩ চারে ৩৬ রানে ফিরেন সাকিব। স্টার্ককে স্ট্রেইড ড্রাইভে দুই রান নিয়ে রানের খাতা খোলেন শামীম। পরের বলে আসে আরও ২ রান। ১৮তম ওভারের শেষ বলে তাকে বোল্ড করেন স্টার্ক। আফিফ দুর্দান্ত খেলছিলেন। শেষ ওভারের চতুর্থ বলে তাকে বোল্ড করেছিলেন স্টার্ক। কিন্তু আম্পায়ার নো বল ডাকেন। ফ্রি হিটেও ক্যাচ দিয়েছিলেন আফিফ। অবশেষে শেষ বলে ১৭ বলে ৩ চারে ২৩ রান করা আফিফকে বোল্ড করেন স্টার্ক। বাংলাদেশ থামে ৭ উইকেটে ১৩১ রান।

বাংলাদেশ একাদশ : মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ নাঈম, সাকিব আল হাসান, নুরুল হাসান (উইকেটকিপার), আফিফ হোসেন, শামীম হোসেন, মেহেদী হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান, শরীফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ।

অস্ট্রেলিয়া একাদশ : অ্যালেক্স ক্যারি, জশ ফিলিপি, মিচেল মার্শ, ময়জেস হেনরিকস, ম্যাথু ওয়েড (অধিনায়ক, উইকেটকিপার), অ্যাশটন টার্নার, অ্যাশটন অ্যাগার, মিচেল স্টার্ক, অ্যান্ড্রু টাই, অ্যাডাম জাম্পা, জশ হ্যাজলউড।

মন্তব্য লিখুন :