মোবাইল গেমস আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা

করোনাভাইরাসের কারণে একটানা বহুদিন ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যার ফলে শিশু থেকে যুবকরা পড়ার টেবিল থেকে অনেকটা ছিটকে পড়েছে। স্বাস্থ্যবিধি নিরাপদ দূরত্ব আর লকডাউন এর কারণে তারা মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না। এমন ঘরমুখী বন্দিজীবন এর আগে তারা কখনোই দেখেনি। বলা যায় প্রাত্যহিক রুটিন জীবন থেকে সকল শিক্ষার্থীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আর সেকারণেই তারা মোবাইল ফোনে হয়ে পড়ছে আসক্ত।

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শুরু করে সব জায়গায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চিত্র একই রকম। প্রতিদিনের রুটিন অনুযায়ী যেখানে শিক্ষার্থীরা ঘুম থেকে উঠেই টিফিন বক্স হাতে নিয়ে স্কুলে যাবার কথা, সেখানে ঘরবন্দি পড়াশোনাবিমুখ শিক্ষার্থীরা বাবা-মা অথবা ভাই-বোনের মোবাইল ফোনে গেম খেলায় আসক্ত হয়ে পড়ছে।

শুধু তাই নয় ছোটদের পাশাপাশি কলেজ ভার্সিটি পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীরা অলস সময় কাটাতে এসব গেমসের পাশাপাশি ফেসবুক-ইউটিউব টিকটকের মতো প্রযুক্তিভিত্তিক গেমসে মূল্যবান সময় নষ্ট করছে। সকাল থেকে দুপুর, দুপুর থেকে সন্ধ্যা প্রায় প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা মোবাইলে অনলাইন ভিত্তিক গেমস নিয়ে পড়ে আছে। বিশেষ করে সকাল ও বিকাল ঘড়ি এ রাতে পড়াশোনা টেবিলে তারা না বসে বন্ধুরা সবাই একত্রিত হয়ে এসব গেম খেলে। তা থেকে মেয়েরাও পিছিয়ে নেই। যুবকরা মোবাইলে এসব গেমস ডাউনলোড দিয়ে দিনের পাশাপাশি বাসায় সারারাত জেগে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় গুলো নষ্ট করছে।

শুধু তাই নয়, উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়েরা এসব গেমসের মাধ্যমে জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপকর্মে। এসব গেমস খেলার জন্য মাসে ব্যয় হয় ৩শ থেকে ৫শ টাকা। অনেক সময়ই মেগাবাইট কিংবা গেমস, ইউসি ডায়মন্ড কেনার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তারা জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপকর্মে।

বাড়ি থেকে টাকা না পেয়ে যুবকরা নানা অপকর্মের দিকে ধাবিত হতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও পরিবারের সাথে এসব গেম খেলা নিয়ে ঝগড়া করে মোবাইল ভেঙ্গে ফেলাসহ পিতা-মাতার সাথে ঝগড়া-বিবাদ লেগে আত্মহত্যার শিকার হতেও দেখা গেছে।

উপজেলার আগ্রাদ্বিগুন এলাকার শাকিল আহমেদ বলেন, আমি নজিপুর সরকারি কলেজের ইন্টার প্রথম বর্ষের ছাত্র। করোনাকালীন সময়ে কম বেশী সকল প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিছুতেই খুলছে না। এলাকায় খেলাধুলার পরিবেশও নেই যে আমরা সেখানে গিয়ে খেলাধুলা করব। এলাকায় থেকে বন্ধুদের দেখাদেখি আমিও ধীরে ধীরে মোবাইল গেমসে আসক্ত হয়ে পড়েছি।

রাজশাহী শাহ মখদুম কলেজের ছাত্র মো. নাঈম ইসলাম বলেন, মোবাইল গেমস আসলে মজার একটি খেলা। এতটাই মজার যা বোঝানো যাবেনা। অনেক সময় ধরে এই গেমস গুলো খেলতে হয় তাতে অর্থ অপচয় হয় স্কুল-কলেজ খুললে হয়তো বা এই আসক্তি থেকে আমরা কিছুটা হলেও মুক্তি পাব।

ঢাকা পলিটেকনিক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া ছাত্র রনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কলেজ বন্ধ থাকায় পড়ালেখার প্রতি মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছি। কলেজ খোলা থাকলে কলেজে যেতাম তাতে পড়াশোনার একটা চাপও থাকতো। বাসায় বসে থেকে সময় না কাটায় মোবাইলে গেম খেলি।

মন্তব্য লিখুন :