স্বপ্নদ্রষ্টা তরুণ বিজ্ঞানী আহমেদ কাউছার

স্বপ্ন দেখতে কে না ভালোবাসে? সবার মনেই স্বপ্ন আছে ছুঁয়ে দেখি আমার সত্তা কে অর্জন করি সফলতার স্বর্ণ শিখর তাই আমাদের আজকের স্বপ্নবাজ আহমেদ কাওছার (২৩) যার বাড়ী পূর্ব মেখল, হাটহাজারী, চট্টগ্রামে। বাবা মনির আহমেদ।

তার জীবন টা ছিল অনেকটা নাটকীয় যার ১ম শ্রেণী থেকে ১০ শ্রেনী পর্যন্ত ৭ টি স্কুল পরিবর্তন করেতে হয়েছে। স্কুল কলেজের গন্ডী পেরিয়ে ভর্তি হন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক অবস্থায় প্রথম বর্ষে তার ইচ্ছে ছিল লেখক বা কবি হওয়ার,প্রতিনিয়ত কবিতা রোমান্টিক গল্প লিখে ভালোই সাড়া পেয়েছিলেন কিন্তু তার এ ইচ্ছে টা বেশিদিন গেলনা। কেমন জানি আবার পরিবর্তন চাই। 

এর পর শুরু করেন ওয়েব ডেভেলপিং, htlml, css শেখার পাশাপাশি javascript, php এবং প্রথমেই তৈরি করলেন তার ডিপার্টমেন্টের জন্য একটি ওয়েবসাইট। 

চ্যালেঞ্জিং কাজ করতে পছন্দ করা এই মানুষটি এ কাজেও মানসিক তৃপ্তি পান নি ভাবলেন আরো অনেক চ্যালেঞ্জিং কিছু দরকার তারপর শিখে নিলেন এপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট,  Android studio, java একটি ব্রাউজার বানিয়ে ও মনের তৃপ্তি যেন পাচ্ছিলেন না।

তিনি নিজেই বুঝতেন না তার কি চাই। তিনি এমন কিছু চাইতেন যেটি সারাদিন করলেও তার মনের শখ মিটবে না। বাল্যকাল থেকেই চ্যালেজিং কাজ পছন্দ করা আহমেদ কাউছার অবশেষে প্রোগ্রামিং করার ইচ্ছে অনুভব করলেন তার ভিতরে

শুরু করলেন প্রোগ্রামিং সি দিয়ে। ভাবলেন এর মাঝে অনেক নেশা আছে , চ্যালেঞ্জিং,ও বটে আর যাদের হাত ধরে তার প্রোগ্রামিং এর অ লিখা শুরু হলো তারা হলেন নোবিপ্রবি ৯ম ব্যাচের শরীফ এবং সাগর । 

তার সাথে কাজ করার মতো কেউ ছিলো না,ছিলো না ভুল ধরিয়ে দেওয়ার মানুষ অবশেষে আইসিই এর ২ জন (শামীম আর অর্নব) এর সাথে একটি টিম করে কাজ শুরু'করে বিভিন্ন সেমিনারে অংশ নিতেন শেখার আগ্রহ নিয়ে। হাঁটি হাঁটি পা পা করে আজ সফলতার ধার প্রান্তে এসে দাড়িয়েছেন এই মানুষটি, সেই গল্পই বলবো আজ আপানদের মাঝে।

প্রথমে সাহায্য করার মতো, পথ দেখানোর কেউ ছিলো না শিখতে গিয়ে হাজারো বার ব্যর্থ হয়েছেন, হাল ছাড়েননি তিনি, গুগল করে জানার প্রয়াস চলমান ছিলো তার। জানার আগ্রহ নিয়ে শুরু হয় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সি নিয়ে গবেষণা, প্রায় ডজন খানিক বই পড়েছেন এই বিষয়ের উপর। তারপর কাজ শুরু করেছেন মুল থেকে।জানতে চেয়েছেন গভীর থেকে।

আহমেদ কাওছার এর মতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিল্যাজেন্সি নিয়ে কাজ করে ২ ধরনের মানুষ (১) যারা শুধু এর এপ্লিক্যাশন করে (২)যারা এর ভেতর টা নিয়ে কাজ করে অর্থাৎ মেথমেটিক্স। তিনি জানান তার দ্বিতীয় বিষয়টি ভালো লাগে বেশি।সব সময় নতুন কিছু করার তাড়না আসতো তার ভেতর থেকে।

অবশেষে তার প্রথম রিসার্স পেপার টি পাবলিশড হয় ২০১৮ সালের ডিসেম্বার মাসে, স্পিঞ্জারের একটি বুক চাপ্টারে যার নাম (Alogrithm for intelligence system)। সেখানে তিনি দেখিয়েছেন মেশিং লার্নিং দিয়ে কিভাবে কোন ডাক্তার ছাড়া ডায়াবেটিস্কের ট্রিটমেন্ট করা যায়।

ভালোলাগার কাজে বাঁধা আসে তার ক্ষেত্রেও ব্যাতিক্রম হয়নি প্রথম বাধা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়, কেননা নিয়মিত ক্লাস করা, সিটি দেওয়া, এক্সাম দেওয়া। ৭০% এটেইডেন্স না হলে এক্সাম না দিতে দেওয়া । তবে এসব নিয়ম তার কাছে বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারে নি তিনি মনে প্রানে বিশ্বাস করতেন ভালো লাগায়। 

প্রোগ্রামিং তার ভালো লাগার একটি, অধিকাংশ সময় এ কাজে ব্যয় করতেন। তিনি বলেন আমার সিজিপিএ ৩ এর নিচে ছিলো এবং আমি কখনো এটেন্ডেন্সের উপর বরাদ্দ ৫ নাম্বার পেয়েছি কিনা আমি মনে করতে পারছি না। তবে আমার পরিবার থেকে আমার সাপোর্ট ছিলো,  তারা আমার ভালো লাগার মূল্যয়ন করেছে কখনো চাপ প্রয়োগ করে নি একাডেমিক শিক্ষার প্রতি জীবনের নির্মম বাস্তবতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনটা কাটিয়েছেন টিউশন করিয়ে তার জন্য ব্যবসায় শিক্ষা কিংবা আর্টস কখনো বাঁধা হতে পারেনি।

তার মতে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ক্লাসের গন্ডীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে সময় নষ্ট না করে নিজের ভালো লাগা চর্চা করা উচিত।

এক নজরে তার অর্জন এবং আবিষ্কার

বাংলাতে প্রথম বাংলা ল্যাংগুয়েজ টুল কিট ডেভেলপ করেন তিনি, এই টুলকিটদিয়ে খুব সহজে বাংলা ভাষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সব কাজ করা যাবে যেমন, রোবট বাংলায় কথা বলবে। যা বাংলাদেশের রোবটিক্স ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদ কর্তৃক আয়োজিত আইইইই সম্মেলনে কম্পিউটার ভিশনের ওপর গবেষণাপত্র প্রকাশ করে গবেষণার জন্য শ্রেষ্ঠ গবেষণা অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।

উল্লেখ্য কম্পিটিশন এনালিসিস করার জন্য কম্পেটেটিভ একটি এলগরিদম আবিস্কার করেন যেটি দিয়ে বিজনেজস বা ইকোনোমিক্সের কম্পিটিশন এনালাইসিস করা যাবে। 

এ ছাড়া রিসার্চ সোসাইটির এবং স্কোপাস আয়োজনে ভারতের বেঙ্গালরুতে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইনোভেটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি - ২০১৯ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর গবেষণাপত্র উপস্থাপন করে আউট¯ট্যান্ডিং রিসার্চের জন্য বেস্ট রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তিনি।

বর্তমানে আহমেদ কাউছার ইম্প্যাক্ট লার্নিং নামে একটি নতুন মেশিন লার্নিং এলগরিদম নিয়ে কাজ করছেন বলে জানান তিনি। তাঁর প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ১৭ টি যা বর্তমান তরুন প্রজন্মের জন্য একটি বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে

আহমেদ কাউছার স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন স্বপ্ন দেখাতে ভালোবাসেন পরিবর্তন আনতে চান প্রযুক্তিতে দেখাতে চান বিশ্বকে নতুন দিগন্ত। কাজ করতে চান সমাজের কল্যানে। তাই তো তরুণ সমাজের প্রতি একটি বার্তা পাঠালেন তিনি।

তিনি বলেন এগিয়ে যাও স্বমহিমায়, সেটাই করো যেটা তুমি ভালোবাসো লেগে থাকো ভালোলাগায় সফলতা আসবেই।

মন্তব্য লিখুন :